
দাম বাড়ানোর পরও এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে কত টাকায়?
কমল দে
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১৮

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ। ছবি: সময় সংবাদ
লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেকটা পিছিয়ে থাকলেও শুধু জ্বালানি ও বিলাসবহুল পণ্য আমদানির ওপর নির্ভর করে গত চার মাসে ২৮ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ। এর মধ্যে একক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন থেকেই আদায় হয়েছে ৩ হাজার ৪৪৮ কোটি টাকা। গত বছর একই সময়ে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে পিছিয়ে থাকলেও কার্গো ওঠা-নামা এবং জাহাজ আসায় চলতি বছর সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর।
চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি পণ্য থেকে চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে ২৭ হাজার ৯৪৮ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ। এর মধ্যে গত অক্টোবরেই আয় হয় ৫ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা। অবশ্য, গত জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে আয় হয় এর চেয়ে বেশি।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন বলেন, আমরা লক্ষ্যমাত্র অর্জনের চেষ্টা করছি। মূলত জ্বালানি, আমদানি মেশিনারিজ এবং অন্যান্য ভোগ্যপণ্য থেকে বেশি রাজস্ব অর্জন হচ্ছে।
চার মাসে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসকে ৪২ হাজার ৬৩৭ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও আশার আলো হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন। জ্বালানি তেল আমদানি শুল্ক বাবদ গত অক্টোবরে রাজস্ব এসেছে ১ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা। অবশ্য সেপ্টেম্বর আয় হয় এর চেয়ে বেশি।
চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক আকতার পারভেজ বলেন, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে হবে। ঢাকার বাবুবাজার ও চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের মতো বড় পাইকারি বাজারগুলোতে ব্যবসা-বাণিজ্য আরও গতিশীল হলে পণ্য, শস্য ও কাঁচামাল আমদানি বাড়বে। এতে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সহজ হবে।
এদিকে, একই সময়ে চট্টগ্রাম বন্দর ১১ লাখ ৪১ হাজার ১৭৯ টিইইউএস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করলেও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কিছুটা কম। আর, ৪ কোটি ৫৩ লাখ মেট্রিক টন কার্গো পণ্য হ্যান্ডলিং এবং এক হাজার ৪২৫টি জাহাজ ভিড়িয়ে গত বছরের তুলনায় সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চট্টগ্রাম বন্দরে কার্গো, কনটেইনার ও জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ে ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ডিসেম্বর পর্যন্ত এই প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের দেয়া সুবিধাগুলো দেশের আমদানি-রফতানির পরিমাণ বাড়াতে বড় ধরণের ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা।
চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম সাইফুল আলম বলেন, ব্যাংকিং সমস্যার কারণে যেসব ব্যবসায়ী আমদানি-রফতানিতে বাধার মুখে ছিলেন, তাদের সমস্যা কাটতে শুরু করেছে। এতে আমদানি-রফতানি বাড়ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণও বাড়বে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে চট্টগ্রাম কাস্টম কাউসকে এক লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।