
মাস্কের উড়ন্ত গাড়ি: গল্প থেকে বাস্তবের পথে!
শুভ খান
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৪

তরঙ্গ নবায়নেও ছাড় পাচ্ছে মোবাইল অপারেটররা। ছবি: সময় সংবাদ
সিমের ওপর থেকে কর প্রত্যাহারের পর এবার তরঙ্গ (স্পেকট্রাম) নবায়নেও মোবাইল অপারেটরদের বিশাল মূল্যছাড় দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) এই প্রস্তাব অনুমোদন পেলে সরকারের ২ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব ঘাটতির শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর আগে চলতি বাজেটে সিম কর বাবদ এরইমধ্যে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার রাজস্ব ছাড় দিয়েছে সরকার।
টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, দেশের তিন শীর্ষ মোবাইল অপারেটর–গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংকের ৭৯.২ মেগাহার্জ তরঙ্গ নবায়নে এই বড় ছাড়ের সুপারিশ করা হয়েছে।
সবশেষ নিলামের ভিত্তিমূল্য অনুযায়ী, ১৫ বছর মেয়াদে এই ৭৯.২ মেগাহার্জ তরঙ্গ নবায়নে অপারেটর তিনটির মোট ১৮ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা ব্যয় হওয়ার কথা ছিল। তবে বিটিআরসির তৈরি করা নতুন সুপারিশকৃত দর অনুযায়ী তা কমে দাঁড়াচ্ছে ১৫ হাজার ৯৩৩ কোটি টাকায়। অর্থাৎ, কর ও ভ্যাট ব্যতিরেকেই সরকারের রাজস্ব কমছে প্রায় ২ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা।
বিটিআরসির সবশেষ নিলামে প্রতি মেগাহার্জ তরঙ্গের ভিত্তিমূল্য ছিল ২৩৭ কোটি টাকা। নতুন সুপারিশে ৯০০ মেগাহার্জ ব্যান্ডের দাম অপরিবর্তিত রাখা হলেও ১ হাজার ৮০০ মেগাহার্জ ব্যান্ডে প্রতি মেগাহার্জের দাম ৩৯ কোটি টাকা কমিয়ে ১৯৮ কোটি টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২ হাজার ১০০ মেগাহার্জ ব্যান্ডে প্রতি মেগাহার্জের দাম ৬৫ কোটি টাকা কমিয়ে ১৭২ কোটি টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।
অবশ্য লাইসেন্সের অবশিষ্ট মেয়াদ বিবেচনায় আগামী ২০৩৯ সালের ১০ মার্চ পর্যন্ত এই তরঙ্গ বরাদ্দ দেয়া হবে। ফলে প্রায় ১২ বছর ৪ মাসের আনুপাতিক হারে চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারিত হবে। এ ছাড়া এই অর্থ এককালীন না নিয়ে ৮টি কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেয়ার সুপারিশও করেছে বিটিআরসি।
তরঙ্গ নবায়নের মূল্যছাড়ের বিষয়ে টেলিযোগাযোগ অপারেটরগুলোর পক্ষ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান বলেন, ‘বিশ্বের অনেক দেশে স্পেকট্রাম প্রায় বিনা মূল্যে দিয়ে দেয়া হয়, যাতে নাগরিকদের মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা যায়।’
অন্যদিকে রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার সাহেদ আলম বিষয়টিকে ‘বিশেষ ছাড়’ হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সরকার সাধারণত স্বল্পমেয়াদি রাজস্বের হিসাব করে। আমরা সরকারকে অনুরোধ করছি দীর্ঘমেয়াদি রাজস্ব ও খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিতে।’
সরকারের এই রাজস্ব ছাড়ের বিষয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ জানান, সব দিক পর্যবেক্ষণ করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তিনি বলেন, ‘গ্রাহক স্বার্থ ও বিনিয়োগের পরিবেশ নিশ্চিত করেই মূল্যছাড়ের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। স্পেকট্রামের প্রাপ্তির মতোই প্রযুক্তির কার্যকর স্থাপন ও সেবার মান রক্ষা করা সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই সব কটি বিষয় মাথায় রেখেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’