
দাম বাড়ানোর পরও এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে কত টাকায়?
প্রকাশ: রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ১৫:৫৯

চলতি বছরের সংকট সামাল দিতে ও দেশের শিল্পকারখানা ও কর্মসংস্থান সচল রাখার স্বার্থে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর বাস্তবতা বিবেচনা করে পাশে দাঁড়াচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
আসন্ন রমজান মাস সামনে রেখে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, খেজুর ও মসুর ডালের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে ঋণপত্র (এলসি) খোলার হার বেড়েছে। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও পরিবহন ব্যয় বাড়তি থাকলে দেশের বাজারে পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা ও দাম নিয়ন্ত্রণ বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
এদিকে রমজানে সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বড় আমদানিকারক ও ভোগ্যপণ্য সরবরাহকারী করপোরেট গ্রুপগুলোকে বিশেষ নীতিগত সুবিধা ও ঋণ সহায়তার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি বেড়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দর ও জাহাজভাড়ার ওঠানামা এবং স্থানীয় বাজারে সিন্ডিকেটের কারসাজি রোধ করে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে দাম রাখা সহজ হবে না বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে গবেষক ও অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘হরমুজ প্রণালিতে তৈরি হওয়া সংকটের সমাধান কীভাবে হয়, সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জ্বালানির দাম বাড়লে উৎপাদন ও পরিবহন–সব ক্ষেত্রেই ব্যয় বাড়ে। ফলে সার্বিকভাবে পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তবে দেশের স্থানীয় উৎপাদন এবং আমদানির মাধ্যমে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত হচ্ছে কি না, তা প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলে বড় সংকট হওয়ার কথা নয়।’
চলতি বছরের সংকট সামাল দিতে ও দেশের শিল্পকারখানা ও কর্মসংস্থান সচল রাখার স্বার্থে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর বাস্তবতা বিবেচনা করে পাশে দাঁড়াচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরই অংশ হিসেবে দেশের অন্যতম শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপকে ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে বিশেষ নীতিগত ছাড় দিয়ে তিন হাজার কোটি টাকার সিন্ডিকেট ঋণ প্রদানে সম্মত হয়েছে ১০টি ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি ডিপার্টমেন্টের পরিচালক মো. শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, ‘১০টি ব্যাংক এতে সম্মতি দিয়েছে। নতুন করে তাদের জন্য প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার অর্থায়নের ব্যবস্থা করা হবে। এর মাধ্যমে আগামী রমজানে যেসব পণ্যের চাহিদা তৈরি হবে, সেগুলোর সরবরাহ সিটি গ্রুপের মাধ্যমে নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
বাজারে সরবরাহ ও নিজেদের শিল্পকারখানা সচল রাখা এবং কর্মসংস্থান বজায় রাখার স্বার্থে ব্যবসায়ী গ্রুপগুলোর আবেদন, যৌক্তিকতা ও বাস্তবতা বিবেচনা করে সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মো. শাহরিয়ার সিদ্দিকী আরও বলেন, ‘বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান আর্থিক সমস্যার মধ্যে রয়েছে। সবার সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে একেক প্রতিষ্ঠানের সমস্যার ধরন একেক রকম। সিটি গ্রুপ অনেক বড় প্রতিষ্ঠান। তাদের কার্যক্রমে ৪৮টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান যুক্ত। ফলে তাদের সমস্যা সমাধানের প্রক্রিয়া অন্য কোনো গ্রুপের চেয়ে আলাদা হবে। তাই প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে বা কেস টু কেস ভিত্তিতে সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।’
এদিকে ব্যাংকগুলোতে ডলারের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। এলসি খোলার ক্ষেত্রে কোনো জটিলতা তৈরি হলে তা এড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানিয়েছেন তারা।