
মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ: তিন স্টেশনে কয়েক ঘণ্টা বন্ধের পর মেট্রোরেল চলাচল শুরু
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬:৫

ফাইল ছবি
নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী আজ সকালে সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীরা বেতন পেয়েছেন। তাদের মুঠোফোনে সেই বার্তা পৌঁছে গেছে। অক্টোবর মাসের বেতনের পাশাপাশি আগের তিন মাসের (জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর) বাড়তি বেতনের বকেয়া টাকাও পেয়েছেন।
রোববার (০১ নভেম্বর) বিভিন্ন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও আট লাখ পেনশনভোগীর প্রায় সবাই বাড়তি বেতন পেলেও বেতন নির্ধারণ (পে ফিক্সেশন) করতে না পারায় কেউ কেউ বেতন পাননি। ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত যারা বেতন নির্ধারণ করতে পেরেছেন তারাই আজ বেতন পেয়েছেন। বাকিরা যথাসময়ে বেতন নিধারণ করতে না পারায় আজ বেতন পাননি। তবে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে তারাও পেয়ে যাবেন।
এদিকে ছয় লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষকের নতুন কাঠামোয় বেতন নিয়ে কাজ চলমান আছে। অর্থ বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এছাড়াও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা শিগগিরই নতুন পে স্কেলের আওতায় আসছেন এমন কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
এদিন নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা জানিয়েছেন। তবে কবে নাগাদ নতুন বেতনকাঠামো (পে স্কেল) কার্যকর হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানাননি তিনি।
বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, সকাল ১০টার পর থেকে তাদের মুঠোফোনে নতুন বেতনের হিসাবে টাকা পাওয়ার বার্তা এসেছে। যাদের পে ফিক্সেশন চূড়ান্ত হয়নি তারা আগামী ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে পাবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।
সূত্রগুলো জানায়, নতুন বেতনকাঠামোতে কিছু জটিলতা রয়েছে এখনও।
এসব সমস্যা দূর করতে অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের কাছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ; আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ; মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়; বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়সহ বেশ কিছু মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অনেক কর্মচারী আবেদন করেছেন।
জানা গেছে, কর্মচারীদের অভিযোগ, নতুন বেতন কাঠামোয় বেতন নির্ধারণ করতে গিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে জ্যেষ্ঠতা ও গ্রেডের ক্রমে অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে। বাড়িভাড়া ভাতা নিয়েও রয়েছে অসঙ্গতি। ফলে কেউ প্রত্যাশিত আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, আবার কারও ক্ষেত্রে পদোন্নতির পরও মোট আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আজ পর্যন্ত এগুলোর সুরাহা হয়নি।
১৭ সেপ্টেম্বর নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি হয়। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ১ থেকে ১১ নম্বর গ্রেডে মূল বেতন ১০০ শতাংশ এবং গ্রেড ১২ থেকে ২০ পর্যন্ত মূল বেতন ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। নতুন এ বেতন কাঠামো ১ জুলাই থেকে বাস্তবায়িত। তবে একসঙ্গে নয়, ধাপে ধাপে।
নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামোতে ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা নতুন বেতনকাঠামোতে বাড়তি মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং ১০–২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা–কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ হারে পেয়েছেন। গত ৩০ জুন আহরিত বা প্রাপ্য বেতনের সঙ্গে তা যুক্ত হয়েছে। তবে ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত তারা এ বৃদ্ধির ৭৫ শতাংশ পাবেন এবং ১ জুলাই ২০২৭ থেকে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধিসহ নতুন বেতন স্কেলের ১০০ শতাংশ কার্যকর হবে।
অন্যান্য সব ভাতা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে যে হারে পাওয়া যাচ্ছিল- সেই বিদ্যমান হারেই দেওয়া হচ্ছে। নতুন প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত সংশোধিত ভাতার হার ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে কার্যকর হবে। এর আগে সর্বশেষ জাতীয় বেতনকাঠামো চালু হয়েছিল ২০১৫ সালে। সেটিই এত দিন সর্বোচ্চ বেতন বৃদ্ধির ঘটনা ছিল। ওই সময় সর্বোচ্চ গ্রেডে মূল বেতন ৯৫ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন গ্রেডে ১০১ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল।