
গুলশান ক্লাবে ‘বনানী উইমেন্স ক্লাব’র কাওয়ালি নাইট
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:৫৬

টিনএজ সময়টা সন্তানের জীবনের সবচেয়ে সংবেদনশীল পরিবর্তনের সময়গুলোর একটি। ছবি: সংগৃহীত
টিনএজ সময়টা সন্তানের জীবনের সবচেয়ে সংবেদনশীল পরিবর্তনের সময়গুলোর একটি। এই বয়সে তারা যেমন স্বাধীন হতে চায়, তেমনি ভেতরে ভেতরে বাবা-মায়ের নিরাপত্তা, ভালোবাসা ও স্বীকৃতিও খুব প্রয়োজন করে। তাই এই সময়ে শাসনের চেয়ে বোঝাপড়া, বন্ধুত্ব ও বিশ্বাস বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
দেখে নিন টিনএজ সন্তানের সঙ্গে বাবা-মায়ের আচরণ কেমন হওয়া উচিত?
১. আগে শুনুন, পরে বলুন: সন্তান কোনো সমস্যা বা ভুলের কথা বললে সঙ্গে সঙ্গে বকাঝকা বা উপদেশ না দিয়ে মনোযোগ দিয়ে শুনুন। সে যেন মনে করে—‘আমি ভুল করলেও বাবা-মাকে বলতে পারব।’
২. অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ করবেন না: কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে, কী করছে—এসব বিষয়ে খোঁজ রাখা জরুরি। তবে প্রতিটি সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করলে সন্তান গোপনীয়তা খুঁজতে শুরু করতে পারে। স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্ববোধ শেখানোই ভালো।
৩. অন্যের সঙ্গে তুলনা করবেন না: ‘ওর ছেলে এত ভালো’, ‘তোমার বান্ধবী তো তোমার চেয়ে ভালো করে’—এ ধরনের কথা আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করতে পারে।
৪. ভুলকে শেখার সুযোগ হিসেবে দেখুন: টিনএজার ভুল করবেই। ভুলের জন্য অপমান না করে জিজ্ঞেস করুন, ‘এখান থেকে তুমি কী শিখলে?’ এতে শাস্তির ভয় নয়, নিজের সিদ্ধান্তের দায়িত্ব নেওয়ার মানসিকতা তৈরি হবে।
৫. ব্যক্তিগত বিষয়কে সম্মান করুন: ডায়েরি, ফোন, ব্যক্তিগত কথোপকথন কিংবা বন্ধুত্ব—সবকিছুতে অযথা নজরদারি না করে বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি করুন। তবে নিরাপত্তা বা গুরুতর ঝুঁকির বিষয় থাকলে অভিভাবকের দায়িত্বশীল হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
৬. রাগের সময় কথা না বাড়ানোই ভালো: সন্তান রেগে গেলে বাবা-মাও রেগে গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। কিছুটা সময় দিয়ে পরে শান্তভাবে আলোচনা করুন। ‘তুমি সবসময় এমন’ না বলে নির্দিষ্ট আচরণ নিয়ে কথা বলুন।
৭. শরীর ও মানসিক পরিবর্তন নিয়ে খোলামেলা কথা বলুন: কৈশোরে শরীর, সম্পর্ক, যৌনতা, আকর্ষণ, আত্মপরিচয়—এসব নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়। বাবা-মায়ের কাছ থেকে নিরাপদ ও বয়সোপযোগী তথ্য না পেলে সন্তান ভুল উৎস থেকে তথ্য নিতে পারে।
৮. ভালো কাজের প্রশংসা করুন: শুধু ফলাফল নয়, চেষ্টা, দায়িত্বশীলতা, সততা ও ভালো আচরণেরও প্রশংসা করুন। এতে সন্তান বুঝবে তার মূল্য শুধু পরীক্ষার নম্বর বা সাফল্যের ওপর নির্ভর করে না।
৯. নিয়ম থাকবে, কিন্তু নিয়মের কারণও থাকবে: ঘুমের সময়, পড়াশোনা, মোবাইল ব্যবহার, বাইরে যাওয়া—এসব বিষয়ে পারিবারিক নিয়ম থাকা দরকার। তবে ‘আমি বলেছি তাই’ না বলে কেন নিয়মটি প্রয়োজন, তা বোঝানো বেশি কার্যকর।
প্রতিদিন কিছুটা ‘নির্ভেজাল সময়’ দিন: সবসময় পড়াশোনা, ফলাফল বা ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা না বলে একসঙ্গে হাঁটা, খাওয়া, সিনেমা দেখা কিংবা গল্প করার অভ্যাস করুন। সন্তানকে জানাতে হবে—তার সঙ্গে সময় কাটানো বাবা-মায়ের কাছে দায়িত্ব নয়, আনন্দও।
টিনএজ সন্তানকে শুধু ‘শাসন করার বয়স’ হিসেবে দেখলে সম্পর্ক দূরে সরে যেতে পারে। বরং এই সময়টাকে ভাবুন ‘সম্পর্ক আরও গভীর করার সময়’ হিসেবে। সন্তান যেন মনে করে—বাইরের পৃথিবী যত কঠিনই হোক, বাবা-মায়ের কাছে সে বিচার নয়, বোঝাপড়া ও নিরাপত্তা পাবে।