
পূজা, আরতি ও পুষ্পাঞ্জলির মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলছে সমাপনপর্ব
মীযান মুহাম্মদ হাসান
প্রকাশ: বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৮

মুসলিম শিশু। ছবি: সংগৃহীত
প্যারেন্টিং কিংবা সন্তান প্রতিপালন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বর্তমানে যা এক ধরনের চ্যালেঞ্জিংও বটে। কারণ, সময়ের আবর্তনে পরিবর্তন ঘটেছে আমাদের লাইফ স্টাইলেও। পারিবারিক জীবনেও এসেছে ভিন্নতা। নানা রকম ব্যস্ততার মধ্যেই পরিবারের জন্য একটু সময় দেওয়া; এখন খুব কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে গেছে। কাজের চাপ ও দায়িত্ব পালন করতে গিয়েও এমনটা হচ্ছে।
এক সময় সংসার, সন্তান ও পরিবারকে সময় দেওয়া সহজ ও স্বাভাবিক বিষয় ছিল। একই সঙ্গে ঘরের কাজে একে অপরের সহযোগী হওয়া ছিল নিত্যজীবনের আনুষাঙ্গিক কাজেরই অংশ। কিন্তু কর্মব্যস্ত জীবনে এখন আর পরিবার বা সন্তানকে সময় দেওয়া ; ছুটির দিনে কোথাও থেকে একটু ঘুরে আসা আর হয়ে ওঠে না প্রায় অনেক মা-বাবারই। এমনকি স্বামী স্ত্রীও ব্যস্ততার কারণে দুজন একসঙ্গে সময় কাটানোও হয়ে ওঠে না। ঠিক এভাবেই পারিবারিক বন্ধনগুলো ভেঙে যাচ্ছে। ছেলে মেয়ের সঙ্গে মা-বাবার সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হচ্ছে। ক্রমেই দূরত্ব বাড়ছে সন্তান ও মা-বাবার মধ্যে। কখনও আবার এই সুযোগে দুষ্ট কোনো এক বা একাধিক বন্ধুর ফাঁদে পড়ে বিপথগামী হয়ে উঠছে আদরের সন্তান।
হ্যাঁ, কখনো আমাদের নিজেদের অজান্তেই ছেলে-মেয়েরা বখে যায়। লাইনচ্যুত হয়ে বিপথে এদিক সেদিক ছোটাছুটি করে। বিভিন্ন বন্ধু বান্ধব ও কাজিনদের সঙ্গে মেলামেশার ফলে, হারিয়ে ফেলে জীবনের লক্ষ্য উদ্দেশ্য। কখনওবা হয়ে ওঠে মাদকাসক্ত। এজন্যই সন্তানকে সময় দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কারও জন্য এতে অবহেলা কাম্য নয় কখনোই!
সন্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বসুলভ আচরণ করা এবং তার সার্বিক বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া একজন সচেতন অভিভাবকের আবশ্যিক দায়িত্ব। তার পড়াশোনা, খেলাধুলা, বন্ধু বা ক্লাসমেইট ইত্যাদি বিষয়ে সচেতনতাও জরুরি। বিশেষ করে সন্তান কার সঙ্গে মিশে, তাও খোঁজ খবর রাখা উচিত। নয়ত হিতে বিপরীত হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়! আজকাল আমাদের সামান্য ভুলের কারণে বহু ছেলে-মেয়ের ভবিষ্যৎ নষ্ট হচ্ছে।
বিপথগামী হচ্ছে আমার -আপনার সন্তানই। তাই শত ব্যস্ততার মধ্যেও ছেলে-মেয়েকে সময় দিতে হবে। তাদের দেখভাল করতে হবে। বিশেষ করে একজন মা-কে এ দায়িত্ব পালন করতে এগিয়ে আসতে হবে। আর সময়মতো তাদের প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র সরবরাহ করা। সাধ্যের মধ্যে তাদের সঙ্গত চাওয়া বা দাবি পূরণ করাও কর্তব্য। অসঙ্গত ও অন্যায্য বিষয়ে কর্ণপাত করা যেমন সন্তানের ক্ষতির কারণ। তেমনি তার দরকারি ও প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোও যথাসময়ে সংগ্রহ না করাও সমীচীন নয়। এটিও ক্ষতির উপলক্ষ হতে পারে!
সন্তানের প্রাথমিক শিক্ষার হাতেখড়ি হওয়া উচিত তার ঘর থেকে। এক্ষেত্রে তার মা-বাবাই হবেন আদর্শ শিক্ষক। তারপর দাদা দাদি ও নানা নানি প্রভৃতির কাছ থেকে শিখবে। এরপর সে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জন করবে। শিখবে আক্ষরিক জ্ঞান। ক্রমান্বয়ে অর্জন করবে নানা ধরনের জ্ঞান বিজ্ঞান প্রযুক্তি ইত্যাদি। কিন্তু তার ভিত্তি বা বুনিয়াদি শিক্ষা হওয়া উচিত আদর্শ ও নৈতিকতা সম্পন্ন সঠিক শিক্ষা। এর সূচনা হতে পারে ধর্মীয় শিক্ষা থেকে। দ্বিতীয়ত এটা হতে পারে ঘর থেকে; মা-বাবার কাছ থেকেই।
এজন্য অভিভাবক হিসাবে আগে আমাদেরকে শিখতে হবে! এরপর আমরা আমাদের সন্তানকে শেখাতে পারব। যদি আমরাই না শিখি। শেখার এবং জানার চেষ্টাও না করি! তবে কীভাবে আমরা আমাদের সন্তানকে শেখাব? আর তারাই কী শিখবে আমাদের থেকে? মনে রাখতে হবে, প্রত্যেকটি শিশু সন্তান তার মা-বাবাকে অনুসরণ করে। কথাবার্তা আচার আচরণ চলাফেরা, লাইফস্টাইল ; মোটকথা সব বিষয়ে তারা মা-বাবাকে ফলো করে। এমনকি বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শিশুরা তাদের অভিভাবকদের থেকে দেখেই শিখতে থাকে। এজন্য সচেতন অভিভাবক মাত্রই সন্তানের সামনে উঠতে বসতে চলতে ফিরতে যে কোনো কিছু করতে ; আরও বেশি সতর্ক হওয়া উচিত। যাতে ভুল কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ থেকে শিশুদের মনে বিরূপ কোনো প্রভাব বা প্রতিক্রিয়া তৈরি না হয়।
ইসলাম সন্তান প্রতিপালন সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে। যেগুলো সংক্ষিপ্ত হলেও, মৌলিক এবং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একজন সচেতন অভিভাবক হিসাবে যেসব বিষয় ফলো করা উচিত। নিম্নে আমরা কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করছি।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেরা বাঁচো এবং তোমাদের পরিবার পরিজন (স্ত্রী ও সন্তানাদিকে) জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও! (সুরা তাহরিম : ০৬)
এ আয়াতের তাফসিরে এসেছে, যখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। তখন সাহাবি হজরত উমর (রা.) বলেন, আমরা নিজেরা তো জাহান্নাম থেকে বাঁচতে পারি। কিন্তু আমাদের পরিবার পরিজনকে কীভাবে বাঁচাব? জবাবে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন- আল্লাহ তায়ালা তোমাদেরকে যে-সব বিষয়ে নিষেধ করেছেন, তোমরা তাদেরকে সে-সব বিষয়ে নিষেধ করো। (শিক্ষা দাও, প্রয়োজনে বাধা দাও, করতে অনুৎসাহিত করো।) আর যেসব বিষয়ে আদেশ করেছেন, তোমরা তাদেরকে সেসব বিষয়ে আদেশ করো। (সেসব পালনে উৎসাহিত করো,) যা তাদের ও জাহান্নামের মধ্যে প্রতিবন্ধক হবে। (তাফসিরে রুহুল মাআনি, খন্ড ২৮, পৃ. ৪৯৬)
উপর্যুক্ত আয়াত ও তাফসির থেকে স্পষ্ট বুঝে আসছে যে, আমাদেরকে আগে বাঁচতে হবে এবং তারপর আমাদের পরিবার পরিজন স্ত্রী সন্তান প্রভৃতি অধীনস্থদেরকেও বাঁচাতে হবে। সঠিক শিক্ষার মাধ্যমে সঠিক পথে পরিচালিত করতে হবে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন- “তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি হচ্ছে পরীক্ষাস্বরূপ। (সুরা আত-তাগাবুন : ১৫)
হ্যাঁ, আমাদের একটু অসচেতনতা বা সামান্য ভুলের কারণেই যখন সন্তানরা বিপথগামী হতে শুরু করে। তখনই কিন্তু তারা আমাদের জন্য পরীক্ষার কারণ হয়ে ওঠে। এজন্য সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
এ বিষয়ে হাদিসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক নির্দেশনা এসেছে। সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- প্রত্যেক নবজাতক স্বভাবধর্ম (স্বাভাবিক সৎগুণাবলি)-এর উপর জন্ম লাভ করে। অতঃপর তার মা-বাবা তাকে বিভিন্নভাবে বিপথগামী হতে শেখায়। (সহি বুখারি : ১৩৮৫)
হাদিসে এসেছে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন কারও সন্তান জন্ম লাভ করে। তখন তার ওপর দায়িত্ব হচ্ছে, সে তার সন্তানের সুন্দর একটি নাম রাখবে। তাকে আদব কায়দা শিষ্টাচার শেখাবে। এরপর যখন সে সাবালকত্বে পৌঁছে যাবে, (তথা প্রাপ্ত বয়স্ক হবে- বিয়ের উপযুক্ত হবে। ছেলেদের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম ও সামর্থ্যবান হবে।) তখন তাকে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ করাবে। আর যদি সাবালকত্বে পৌঁছার পর (প্রয়োজনীয় সাধ্য ও সামর্থ্য থাকা সত্বেও কেউ তার) সন্তানকে বিয়ে না করায়। আর এ কারণে সন্তান (ছেলে বা মেয়ে) কোনো পাপে জড়িয়ে পড়ে। তবে এর দায় তার পিতার ওপর বর্তাবে। তথা, পিতাও গোনাহগার হবেন। (বাইহাকি সংকলিত শুয়াবুল ঈমান)
উপর্যুক্ত এ একটি হাদিসেই গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক সব বিষয় উঠে এসেছে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (কোনো সন্তান) জন্মের সপ্তম দিবসে নবজাতক সন্তানের নাম রাখো। (তিরমিজি: ২৮৩২)
তাবে-তাবেঈ হজরত আমর ইবনে শুয়াইব (রাহ.) হতে পর্যায়ক্রমে তার বাবা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণনা। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, শিশুর জন্মের সপ্তম দিনে তার নাম রাখতে, মাথা মুন্ডন করতে এবং তিনি আকীকা করতে আদেশ করেছেন।
(সুনানে তিরমিজি : ২৮৩২) এজন্য সুন্দর অর্থবহ একটি নাম রাখা এবং আকিকা করা উচিত।
হজরত আমর ইবনে শুয়াইব (রাহ.) তার পিতা থেকে, তার পিতা তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন- রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের সন্তানদের বয়স সাত বছর হলে, তাদেরকে নামাজ আদায়ের জন্য নির্দেশ দাও। যখন তাদের বয়স দশ বছর হয়ে যাবে, তখন (নামাজ আদায় না করলে,) এজন্য তাদেরকে (প্রয়োজন হলে শাসন) প্রহার করবে এবং তাদের ঘুমের বিছানা আলাদা করে দেবে। (সুনানে আবু দাউদ : ৪৯৫)
এ হাদিসটিতে সন্তানকে গুরুত্বপূর্ণ কোনো কিছু কখন থেকে শেখানো উচিত সে বিষয়ে নির্দেশনা এসেছে। একইসঙ্গে দশ বছর বয়সে তাদের বিছানা আলাদা করে দিতে বলা হয়েছে। বর্তমানে যা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা আরও একটু বিস্তারিত উদাহরণসহ একজন আদর্শ পিতার গুরুত্বপূর্ণ কিছু উপদেশ তুলে ধরেছেন। যিনি তাঁর আপন পুত্রকে বিশেষ কিছু উপদেশ দিয়েছিলেন। আর তিনি হচ্ছেন হজরত লোকমান (আ.)। তিনি তার আপন পুত্রকে বলেন, হে আমার ছেলে! তুমি আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরীক-অংশীদার সাব্যস্ত করো না। নিশ্চয়ই শিরক মহা অন্যায় কাজ। নামাজ কায়েম (আদায়) করো। (মানুষদেরকে) সৎ কাজের আদেশ দাও। অসৎ কাজে নিষেধ করো এবং ধৈর্য ধারণ করো। (সুরা লোকমান : ১৩-১৯)
এখান থেকে স্পষ্ট বুঝে আসে যে, একজন সচেতন অভিভাবকের দায়িত্ব হচ্ছে, নিজে আপন সন্তানকে আদর্শ ও নৈতিক শিক্ষা প্রদান করা। অথবা, সন্তানের নৈতিক শিক্ষা নিশ্চিত করা। যেন সে ভবিষ্যতে বিপথগামী না হতে পারে। আল্লাহর আনুগত্যের মধ্যে সে তার জীবনকে পরিচালিত করে।
তাবে-তাবেঈ হজরত আইউব ইবনে মুসা (রাহ.) হতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- কোনো পিতা তার সন্তানকে উত্তম শিষ্টাচার শিক্ষা দেওয়ার চেয়ে বেশি উত্তম কোনো (মূল্যবান) জিনিস দিতে পারে না। এ হাদসটির সনদ মুরসাল (সুনানে তিরমিজি :১৯৫২)
বাস্তবেই সবচেয়ে দামি অমূল্য সম্পদ হচ্ছে, সন্তানকে নৈতিক আদর্শ ও শিষ্টাচার শিক্ষা দেওয়া। যাতে করে সে মানুষের মতো মানুষ হতে পারে।
সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- সাবধান! তোমরা প্রত্যেকেই এক একজন দায়িত্বশীল, আর (পরকালে) নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে তোমাদের প্রত্যেককেই জবাবদিহি করতে হবে। সুতরাং, জনগণের শাসকও একজন দায়িত্বশীল লোক, তার দায়িত্ব সম্পর্কে তাকে জবাবদিহি করতে হবে।
আর প্রত্যেক পুরুষ (স্বামী হিসাবে সে তার স্ত্রী ও পরিবার-পরিজন বিষয়ে) তার পরিবারের একজন দায়িত্বশীল, তাকে তার (অধীনস্থদের বিষয়ে পালনীয়) দায়িত্ব সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে।
আর (যে কোনো নারী বা) স্ত্রী তার স্বামীর ঘর-সংসার ও সন্তান-সন্ততির ওপর দায়িত্বশীল, তাকে তার দায়িত্ব পালন সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে। (অর্থাৎ, একজন নারীকে মা হিসাবে তার সন্তানের হক বা দায়িত্ব পালন সম্পর্কে বিশেষভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।)
এমনকি কোনো গোলাম বা চাকর-চাকরাণীও তার মনিবের ধন-সম্পদের উপর একজন দায়িত্বশীল, তাকে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে।
অতএব, সাবধান! তোমরা প্রত্যেকেই এক একজন দায়িত্বশীল, আর তোমাদের প্রত্যেককেই স্বীয় দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হতে হবে। (সহি বুখারি : ৭১৩৮ ও সহি মুসলিম : ১৮২৯)
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে এ কথা বুঝে আসে যে, মা বাবা হিসাবে আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে, আপন সন্তানকে নৈতিক ও আদর্শ শিষ্টাচার শিক্ষা দেওয়া। সন্তানের প্রতি দয়া অনুগ্রহ স্নেহ ও ভালোবাসা প্রদর্শন করে, তাকে সঠিকভাবে বেড়ে উঠতে সর্বোচ্চ ভূমিকা পালন করা। এর বিপরীতে সন্তানের অহেতুক আবেগকে প্রাধান্য দিয়ে তার ভবিষ্যতকে নষ্ট করাও কোনো সচেতন অভিভাবকের কাজ হতে পারে না। এজন্য সন্তানের শিক্ষা দীক্ষায় মনোযোগ দেওয়া যেমন জরুরি কর্তব্য। তেমনি তার কর্মের বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করা জরুরি। আবেগ ভালোবাসার আতিশয্যে সন্তানকে ননির পুতুল বানিয়ে তার ভবিষ্যৎ ধ্বংস করা যেমন কাম্য নয়। তেমনি তাকে কোনো কাজের জন্য উৎসাহিত না করে; কেবল ঘরে বসিয়ে আতুড় বানানোও কোনো অভিভাবকের জন্যই সমীচীন নয়। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সন্তানের আদর্শ ও নৈতিকতা সম্পন্ন সুশিক্ষা নিশ্চিত করা এবং তাদের ভবিষ্যৎ কল্যাণকর করার যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণের তাওফিক দান করুন। আমিন।
লেখক: খতিব, ভবানীপুর মাইজপাড়া হক্কানি জামে মসজিদ, সদর, গাজীপুর