
আমলকীর জুস খেলে শরীরে কী ঘটে?
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৯:৩৫

নবজাতক থেকে শুরু করে শিশু-কিশোরদেরও স্ট্রোক হতে পারে। ছবি: সংগৃহীত
স্ট্রোক মানেই কি শুধু বয়স্ক মানুষের রোগ? অনেকের ধারণা, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস কিংবা কোলেস্টেরলের সমস্যায় আক্রান্ত বয়স্ক ব্যক্তিদেরই স্ট্রোক হয়। কিন্তু এই ধারণা পুরোপুরি ঠিক নয়। নবজাতক থেকে শুরু করে শিশু-কিশোরদেরও স্ট্রোক হতে পারে।
শিশুদের ক্ষেত্রে স্ট্রোক তুলনামূলক বিরল হলেও এটি অত্যন্ত গুরুতর একটি স্বাস্থ্যঝুঁকি। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, অনেক সময় অভিভাবকরা শিশুদের স্ট্রোকের লক্ষণ বুঝতে পারেন না। ফলে চিকিৎসা নিতে দেরি হয়ে যায়।
শিশুদের স্ট্রোক কেন হয়?
স্ট্রোক মূলত মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া অথবা মস্তিষ্কের কোনো রক্তনালি ফেটে যাওয়ার কারণে ঘটে। শিশুদের ক্ষেত্রেও এর দুটি প্রধান ধরন রয়েছে।
- ইস্কেমিক স্ট্রোক: মস্তিষ্কের কোনো রক্তনালিতে রক্ত জমাট বেঁধে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
- হেমোরেজিক স্ট্রোক: মস্তিষ্কের রক্তনালি ফেটে গিয়ে রক্তক্ষরণ হয়।
শিশুদের স্ট্রোকের পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে-
১. জন্মগত হৃদ্রোগ বা হৃদ্যন্ত্রের গঠনগত সমস্যা।
২. সিকেল সেল ডিজিজের মতো রক্তের রোগ।
৩. মস্তিষ্কের রক্তনালির জন্মগত ত্রুটি।
৪. রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা।
৫. মাথায় গুরুতর আঘাত বা কিছু সংক্রমণ।
৬. মস্তিষ্কের রক্তনালিতে প্রদাহ বা অন্যান্য রক্তনালিজনিত সমস্যা।
শিশুদের স্ট্রোকের লক্ষণ কী কী?
শিশুদের স্ট্রোকের লক্ষণ অনেক সময় বড়দের মতোই হয়। তবে বয়সভেদে কিছু পার্থক্য দেখা যায়। যেসব লক্ষণের দিকে অভিভাবকদের বিশেষ নজর রাখা প্রয়োজন—
১. হঠাৎ শরীরের এক পাশ দুর্বল হয়ে যাওয়া।
২. মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া।
৩. কথা বলতে অসুবিধা হওয়া বা জড়িয়ে কথা বলা।
৪. হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখা বা দৃষ্টিশক্তির সমস্যা।
৫. হাঁটতে গিয়ে ভারসাম্য হারানো বা বারবার পড়ে যাওয়া।
৬. হঠাৎ প্রচণ্ড মাথাব্যথা, বিশেষ করে বমি ও অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব।
৭. হঠাৎ খিঁচুনি হওয়া, বিশেষ করে শরীরের এক পাশে।
৮. অস্বাভাবিক বিভ্রান্তি বা অচেতন হয়ে যাওয়া।
স্ট্রোকের লক্ষণ দেখলে অভিভাবকদের কী করতে হবে?
শিশুর মুখ বেঁকে যাওয়া, শরীরের এক পাশ দুর্বল হয়ে পড়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া কিংবা হঠাৎ খিঁচুনি শুরু হলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিতে হবে। প্রয়োজনে জরুরি অ্যাম্বুলেন্স ডাকতে হবে।
- লক্ষণ কখন শুরু হয়েছে, সময়টি মনে রাখুন।
- চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ দেবেন না।
- শিশুকে জোর করে খাবার বা পানি খাওয়াবেন না।
- লক্ষণ কিছুক্ষণ পর সেরে গেলেও হাসপাতালে যেতে হবে।