
জ্বালানি ব্যয় বাড়ায় থমকে গেল বিলাসবহুল প্রমোদতরি, কম্বোডিয়ায় আটকা ২০০ যাত্রী
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৬

ইসরাইলের পার্লামেন্ট নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল এখনও ঘোষণা করা হয়নি। তবে দেশটির শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রধান বুথফেরত জরিপ ইঙ্গিত দিচ্ছে, সরকার গঠনে চরম রাজনৈতিক অচলাবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি জোট গঠনের দর-কষাকষির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দেশটি।
ইসরাইলের রাজনৈতিক ইতিহাসে একক দল হিসেবে সরকার গঠনের মতো পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার নজির নেই। বরাবরই কয়েকটি দলের সমন্বয়ে জোট সরকার গঠিত হয়। এবারের নির্বাচনেও মূলত দুটি প্রধান রাজনৈতিক জোট একে অপরের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। তবে বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, নতুন কোনো মিত্রকে পাশে টানা ছাড়া উভয় জোটের কারোর পক্ষেই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় অন্তত ৬১টি আসন পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
ইসরাইলের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের আদর্শগত মতপার্থক্য তৈরি হলে গঠিত জোটে ফাটল ধরতে বেশি সময় লাগে না। যে কারণে বাস্তব ক্ষেত্রে খুব কম নেসেটই (ইসরাইলি পার্লামেন্ট) তার নির্ধারিত চার বছরের পূর্ণ মেয়াদ সম্পন্ন করতে পেরেছে। একইসঙ্গে এই ব্যবস্থা ছোট দলগুলোকে একটি সুবিধাজনক অবস্থানে এনে দেয়, যেখানে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন এবং সরকারের টিকে থাকার বিষয়ে ছোট দলগুলোর সিদ্ধান্তই বড় প্রভাব ফেলে। অনেক সময় ক্ষমতায় টিকে থাকতে প্রধানমন্ত্রীকে দলগুলোর সাম্প্রদায়িক বা গোষ্ঠীকেন্দ্রিক দাবি মেনে নিতেও দেখা যায়।
তেল আবিবে নিজ দলের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বক্তব্যে বিরোধী জোটের নেতা ও প্রাক্তন সামরিক বাহিনী প্রধান গাদি আইজেনকোট ইসরাইলের রাজনীতির এক 'নতুন যুগের' দিকে ইঙ্গিত করেছেন।
জরিপের প্রাথমিক ফলাফলের পর তিনি বলেন, 'ইসরাইলে এখন পরিবর্তন আর নতুন যুগের হাওয়া বইছে। বর্তমান ব্যর্থ জোট সরকার ইতোমধ্যে দেশের জনগণের চূড়ান্ত আস্থা হারিয়েছে।'
অন্যদিকে এক ভাষণে ইসরাইলের দীর্ঘমেয়াদি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইরান ও এর ইসলামিক সরকারকে পরাজিত করা ইসরাইলের জন্য অপরিহার্য।
নেতানিয়াহু বলেন, 'লড়াই এখনও শেষ হয়নি। কারণ যতক্ষণ পর্যন্ত এই ধর্মান্ধ ও চরমপন্থী শাসনব্যবস্থা টিকে থাকবে, যারা আমাদের অস্তিত্ব নিশ্চিহ্ন করাকেই তাদের মূল লক্ষ্য বানিয়েছে, ততক্ষণ তারা আমাদের ধ্বংসের চেষ্টা চালিয়ে যাবে।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'আমাদের পরম বন্ধু, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মিলে ইসরাইলের জন্য এই অস্তিত্বের হুমকি চিরতরে দূর করার এক ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে। কোনো ধরনের সংকীর্ণ স্বার্থ বা অজুহাত যেন আমাদের এই পবিত্র মিশন থেকে বিচ্যুত করতে না পারে।'
ভাষণে নেতানিয়াহু ইসরাইলের আরব-সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে কোনো সরকার গঠনের সম্ভাবনা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। তার মতে, ভোটারদের সুস্পষ্ট একটি বড় অংশ ইসরাইলকে একটি ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবেই দেখতে চায়।
তিনি বলেন, 'ইসরাইলের অস্তিত্বের পরিপন্থী এবং ইহুদি রাষ্ট্রবিরোধী আরব দলগুলোর ওপর নির্ভর করে কোনো সরকার গঠন করা দেশকে চূড়ান্ত ঝুঁকিতে ফেলার শামিল। এমন কাজ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।'
উল্লেখ্য, বুথফেরত জরিপে অনুমান করা হচ্ছে, মূল দুটি প্রধান জোটের বাইরে থাকা আরব দলগুলো প্রায় ১৭ থেকে ১৯টি আসনে জয় পেতে পারে। গাণিতিকভাবে যা নেতানিয়াহু কিংবা আইজেনকোট, যেকোনো এক জোটকে প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সীমা পার করাতে সক্ষম। কিন্তু নীতিগত জায়গা থেকে নেতানিয়াহু এবং আইজেনকোট উভয় পক্ষই আরব দলগুলোর সঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনাকে নাকচ করে দিয়েছেন।