
স্পেনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনায় ১০ জন নিহত
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ৯:২৪

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক ১৮টি আসন পেতে যাচ্ছে আরব নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দলগুলো। বুথফেরত জরিপের এমন আভাসে দেশটির রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের ওলটপালট শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের অভূতপূর্ব উপস্থিতি দেখা গেছে এবারের নির্বাচনে, যা গত কয়েক দশকের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত ভোটের প্রাথমিক হিসাব পর্যালোচনা করে চ্যানেল-১২ জানিয়েছে, ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ভোটদানের হার প্রায় ৮০ শতাংশে পৌঁছেছে। ১৯৯৯ সালের পর এবারই প্রথম এত বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে দেখা গেল।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, ১২০ আসনের নেসেটে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিত্বকারী প্রধান দুটি দল ‘জয়েন্ট লিস্ট’ ও ‘রা আম’ মিলিয়ে রেকর্ড ১৮টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের বিরোধী জোট এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির জোট, দুপক্ষই ৫১টি করে আসন পেতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
এমন অবস্থায় সরকার গঠনে প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের জাদুকরী সংখ্যা ছোঁয়ার ক্ষেত্রে আরব দলগুলোই এখন প্রধান 'কিংমেকার' বা নিয়ন্ত্রক শক্তি হয়ে উঠেছে।
সরকার গঠনে আরব জোটের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে রা’আমের শীর্ষ নেতা মানসুর আব্বাস জানান, নির্বাচনে চূড়ান্ত ফলাফলে তাদের সমর্থন ছাড়া সরকার গঠন করা কঠিন হবে। ইতিমধ্যে দেশটির প্রধান দুটি রাজনৈতিক জোটই তার দলের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই ফলাফল ইহুদি নেতৃত্বাধীন দলগুলোর জন্য এক জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। সাবেক রাষ্ট্রদূত অ্যালন পিঙ্কাস জানান, নির্বাচনে প্রচারণার সময় বিরোধী দলগুলো আরবদের সঙ্গে জোট না বাঁধার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আরব দলগুলোকে বাদ দিয়ে সরকার গঠন করা কোনোপক্ষের জন্যই সম্ভব নয়।
ভোটের দিন ফিলিস্তিনিদের রেকর্ড উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে কট্টরপন্থী ইহুদিদের উসকে দেওয়ার শেষ চেষ্টা করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হিজাব-নিকাব পরা ফিলিস্তিনি নারীদের দীর্ঘ লাইনের ছবি পোস্ট করে তিনি ইহুদি সমর্থকদের সতর্ক করে দেন, ‘আরবরা ভোট দিচ্ছে, এখনই সচেতন না হলে আরব নেতৃত্বাধীন সরকার তৈরি হবে’।
ইসরায়েলের নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, এবার সার্বিক ভোটদানের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ। প্রায় ১ কোটি জনসংখ্যার ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি নাগরিকের সংখ্যা ২১ শতাংশের মতো। এতদিন বৈষম্য ও বর্জনের কারণে তারা ভোটকেন্দ্র থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখলেও, এবারের নির্বাচনে তাদের এই গণজোয়ারকে নিজেদের ‘অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই’ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।