
দাম বাড়ানোর পরও এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে কত টাকায়?
কমল দে, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ৯:১৭

চট্টগ্রাম বন্দরের ফাইল ছবি
শুল্ক ফাঁকি দিতে মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানির প্রবণতা বাড়ছে। এতে বছরে হাজার কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য ও দেশের বাজার ব্যবস্থায় তৈরি হচ্ছে নানা জটিলতা। গত ১৬ মাসে ৯০০টি পণ্য চালান পরীক্ষা করে প্রায় ২০০ কোটি টাকা বাড়তি রাজস্ব আদায় করেছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ। তারপরও কম শুল্কের পণ্যের ঘোষণায় বেশি শুল্কের পণ্য আমদানির প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে আসছে না।
চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ২৭০টি সন্দেহজনক আমদানি চালান জব্দ করে ৫৮ কোটি টাকা বাড়তি শুল্ক আদায় করেছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ। পাশাপাশি জরিমানা আদায় করেছে আরও অন্তত ২০ কোটি টাকা।
অন্যদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১ হাজার ৪৫১টি সন্দেহজনক চালানের ডেলিভারি লক করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ৮৪৩টি ঘটনায় মামলা করা হয়। পরে এসব চালান পরীক্ষা করে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় ৫২ কোটি টাকা বাড়তি রাজস্ব এবং ৫৯ কোটি ৬৩ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। সব মিলিয়ে আদায় হয় ১১১ কোটি টাকা।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, গত ১৬ মাসে এআইআর, আনস্টাফিং ও জেটির পাঁচটি জোন অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় ২০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় করা হয়েছে।
কাস্টমস আইন অনুযায়ী, আমদানি করা পণ্যের শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করার নিয়ম রয়েছে। তবে পর্যাপ্ত জনবলের অভাব ও সময়ক্ষেপণের কারণে বাস্তবে ৫ থেকে ৮ শতাংশের বেশি পণ্য পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে শুল্ক ফাঁকি দিতে কিছু আমদানিকারক কম শুল্কহারের পণ্যের ঘোষণা দিয়ে বেশি শুল্কের পণ্য আমদানি করেন।
ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরামের চেয়ারম্যান এস এম আবু তৈয়ব বলেন, এতে সরকার রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। যারা নিয়ম মেনে শুল্ক পরিশোধ করে পণ্য আমদানি করেন, তারা অসাধু ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছেন। এতে সৎ ব্যবসায়ীরা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।
সম্প্রতি সাধারণ যন্ত্রপাতি আমদানির আড়ালে বিলাসবহুল গাড়ি আনার একাধিক চালান জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক আকতার পারভেজ বলেন, এসব সিবিইউ গাড়ি তুলা হিসেবে ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা হচ্ছে। কীভাবে এসব পণ্য বন্দর থেকে খালাস হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখার সময় এসেছে।
মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে আমদানিকারকের পাশাপাশি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টকেও দায়ী করা হয়। তবে এবার এ ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে কাস্টমসকে সহযোগিতা করছে কাস্টমস এজেন্ট কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম কাস্টম এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম সাইফুল আলম বলেন, কাস্টমসকে সহযোগিতা করছি। অনেক সময় আমদানিকারকরা ভুল এইচএস কোড ব্যবহার করে পণ্য আমদানি করায় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন। এমনকি আমরাও প্রতারণার শিকার হচ্ছি।
চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রতি অর্থবছরে ৪ থেকে ৫ লাখ কোটি টাকার পণ্য আমদানি হয়। এসব আমদানি থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় করে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ। তবে গুটিকয়েক ব্যবসায়ীর মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানির কারণে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা বাজারে অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছেন। একই সঙ্গে শত কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। এ ছাড়া বাজারে পণ্যের চাহিদা ও সরবরাহের হিসাবেও তৈরি হচ্ছে বিভ্রান্তি।