
বাংলা চলচ্চিত্রের শেষ মেগাস্টার শুধু তুমি: ওমর সানী
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৩:২৬

দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে চলচ্চিত্র তারকাদের প্রভাব দীর্ঘদিনের। ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে চলচ্চিত্র তারকাদের প্রভাব দীর্ঘদিনের। অভিনয়জগৎ থেকে রাজনীতিতে এসে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের নজিরও রয়েছে এই রাজ্যে।
সম্প্রতি অভিনেতা সি জোসেফ বিজয়ের রাজনৈতিক উত্থানের পর এবার নতুন করে আলোচনায় এসেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী অভিনেতা ধানুশ। প্রশ্ন উঠেছে, বিজয়ের পথ অনুসরণ করে তিনিও কি রাজনীতির মাঠে নামতে যাচ্ছেন?
ধানুশের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড, ভক্তদের সংগঠিত করার উদ্যোগ এবং সামাজিক কর্মকাণ্ড ঘিরে এই জল্পনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। যদিও তার ঘনিষ্ঠ মহল বলছে, আপাতত রাজনীতি নয়, সিনেমার কাজেই মনোযোগী এই অভিনেতা।
গত ২৫ অক্টোবর চেন্নাইয়ের উপকণ্ঠে একটি বেসরকারি কলেজে নারী ভক্তদের নিয়ে সমাবেশের আয়োজন করেন ধানুশ। অনুষ্ঠানে কয়েক শ ভক্তকে পদ্মফুল খোদাই করা রুপার প্রদীপ উপহার দেন তিনি। ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির নির্বাচনী প্রতীক পদ্মফুল হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় নানা আলোচনা।
এর আগে দিল্লি সফরে বিজেপি নেতাদের সঙ্গে ধানুশের সাক্ষাতের খবরও প্রকাশিত হয়েছিল। এসব ঘটনার পর অভিনেতার সঙ্গে বিজেপির সম্ভাব্য রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা নিয়ে নতুন করে জল্পনা ছড়িয়েছে।
এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন কংগ্রেস নেতা মানিকম ঠাকুর। তার দাবি, একজন জনপ্রিয় অভিনেতাকে সামনে এনে রাজনৈতিক বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে বিজেপি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিজেপির পরিকল্পনার প্রথম ধাপে ছিল এআইএডিএমকে সাধারণ সম্পাদক এদাপ্পাদি কে পালানিস্বামীকে কাজে লাগানো, দ্বিতীয় ধাপে কে আন্নামালাইয়ের মাধ্যমে নতুন দল গঠন এবং তৃতীয় ধাপে কোনো চলচ্চিত্র তারকাকে রাজনীতিতে নিয়ে আসা।
অন্যদিকে, তামিলনাড়ুর এআইএডিএমকের কয়েকজন নেতা ধানুশকে তাদের দলে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ধানুশের রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়ে আলোচনার আরেকটি কারণ তার ভক্ত সংগঠনের নতুন উদ্যোগ। গত ১৪ অক্টোবর নিজের ভক্ত সংগঠনের নাম পরিবর্তন করে ‘ধানুশ ওয়েলফেয়ার মুভমেন্ট’ রাখেন তিনি। এরপর সংগঠনের নতুন পতাকা ও প্রতীক চালুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রাজনীতিতে তার অভিষেকের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা আরও বাড়ে।
তবে সংগঠনের নেতা ও চলচ্চিত্র পরিচালক সুব্রামানিয়াম শিবা জানিয়েছেন, পতাকাটি নতুন নয়। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এটি ব্যবহার করা হচ্ছে। পতাকার মাঝখানে রয়েছে লাল তারকা ও ধানুশের ছবি। দুই পাশে তামিল ভাষায় লেখা ‘এন্নামপোল থান ভাঝক্কাই’। এর অর্থ, মানুষের জীবন তার চিন্তারই প্রতিফলন।
শুধু সাংগঠনিক কার্যক্রম নয়, জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ নিয়েও পরিকল্পনা করছে ধানুশের সংগঠন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তামিলনাড়ুর ২৩৪টি বিধানসভা আসনে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা
মূল্যে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত পাঠদানকেন্দ্র চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী বছরের জানুয়ারির মধ্যে এসব কেন্দ্র চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে তিনজন শিক্ষক ও একজন সহকারী নিয়োগ দেওয়া হবে। তাদের বেতনও বহন করবে সংগঠনটি।
এ ছাড়া সংগঠনের সদস্য ও সাধারণ মানুষের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে রাজ্যজুড়ে তিন হাজার আইন উপদেষ্টা নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানা গেছে।
এর আগে গত ২৭ জুলাই তিরুভাল্লুর জেলায় এক অনুষ্ঠানে ভক্তদের উদ্দেশে ধানুশ বলেছিলেন, শুধু তার সিনেমার মুক্তি কিংবা অডিও প্রকাশের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেই হবে না। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আরও বড় কিছু করার চেষ্টা করতে হবে। তার এই বক্তব্যকেও অনেকে রাজনৈতিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
এক ভক্তের দাবি, ২০২৫ সাল থেকেই নিয়মিতভাবে ভক্তদের সঙ্গে বৈঠক করছেন ধানুশ। তৃণমূল পর্যায় থেকে সমর্থকদের সংগঠিত করাই তার মূল লক্ষ্য। ওই ভক্তের আরও দাবি, ধানুশের ভক্তদের একটি বড় অংশ ২০২৬ সালের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে অভিনেতা বিজয়কে ভোট দিয়েছিলেন।
তবে এতসব জল্পনার মধ্যেও রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেননি ধানুশ। তার ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, আপাতত চলচ্চিত্রের কাজ নিয়েই ব্যস্ত তিনি।
ধানুশের আগামী ছবি ‘ওএম’-এর পরিচালক রাজকুমার পেরিয়াসামিও অভিনেতার রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার গুঞ্জনকে গুরুত্ব দিতে চাননি। তার ভাষ্য, ধানুশ সিনেমার প্রতি অত্যন্ত নিবেদিত। রাজনীতিতে প্রবেশের কোনো পরিকল্পনার কথা তিনি জানেন না।
বর্তমানে ধানুশের ৫৫তম ছবির কাজ চলছে। এরই মধ্যে ৫৬তম ছবির মহরতও সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি অন্য ভাষার চলচ্চিত্রেও কাজ করছেন তিনি। ‘ওএম’ ছবিটি আগামী ২০ নভেম্বর বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা।