
মহেশখালীতে আরও তিনটি এলএনজি টার্মিনাল হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব
প্রকাশ: রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ৭:৪৭

মধুমতী নদীর পাশেই কৃষক আসাদুজ্জামানের এক টুকরো জমি। আগে বীজ বুনে নদীর পানি দিয়ে সেচ দিলেই ফসলে ভরে উঠত মাঠ। কিন্তু গত কয়েক বছরে নদীর পানিতে লবণাক্ততা বেড়েছে। এতে গাছ মরে যাচ্ছে, দেখা দিচ্ছে নানা রোগবালাই। কমতে কমতে ফসলের ফলন নেমে এসেছে অর্ধেকে।
কৃষক আসাদুজ্জামান বলেন, ভালো ফসল হয় না। আগে অল্প সার প্রয়োগ করেই ভালো ফলন পাওয়া যেত, কিন্তু এখন আর তা হচ্ছে না।
একদিকে নদ-নদীতে উজান থেকে আসা মিষ্টি পানির প্রবাহ কমছে, অন্যদিকে বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা। ফলে জোয়ারের সঙ্গে আসা নোনা পানি ক্রমেই উত্তরের দিকে ছড়িয়ে পড়ছে।
মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের (এসআরডিআই) গবেষণার তথ্য বলছে, গত ছয় বছরে সাতক্ষীরার তালায় কপোতাক্ষ নদে লবণাক্ততার মাত্রা সর্বোচ্চ ৩২ দশমিক ১২ ডিএস/এম-এ পৌঁছেছে।
বেতনা ও ঘাগড় নদ হয়ে গোপালগঞ্জের মধুমতী নদেও লবণাক্ততার মাত্রা পাওয়া গেছে ৪ দশমিক ১৬ ডিএস/এম। অথচ কৃষিকাজের জন্য পানির আদর্শ সহনীয় মাত্রা ২ ডিএস/এম।
মূলত উজানের পানির প্রবাহ ধীরে ধীরে কমে যাওয়ায় সাগরের নোনা পানি ক্রমেই নদীপথ ধরে ভেতরের দিকে প্রবেশ করছে। ছড়িয়ে পড়ছে লবণাক্ততা। এতে মাটি, পানি, ফসল ও প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলোতে মিষ্টি পানির অন্যতম প্রধান উৎস গঙ্গা-পদ্মার প্রবাহ। তবে শুষ্ক মৌসুমে ভারত এসব নদীর পানি আটকে রাখায় এ অঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদীতে লবণাক্ততা বাড়ছে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী বলেন, উজান থেকে পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জোয়ারের সঙ্গে আসা পলি নদীর তলদেশ ভরাট করছে। এ প্রক্রিয়া চলতে থাকলে বিস্তীর্ণ এলাকা লবণাক্ততার ঝুঁকিতে পড়বে।
এ পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে শুধু নদী খননই যথেষ্ট নয়। পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি আন্তঃসীমান্ত নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
ড. আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী আরও বলেন, উজানের দিকে খাল-নদীর সঙ্গে সংযুক্ত যেসব জলপথ ভরাট হয়ে আছে, সেগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় খনন করতে হবে। একই সঙ্গে মিষ্টি পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। এ খননকাজ সর্বোচ্চ প্রশাসনিক সক্ষমতা ও সততার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সংকট সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে খাদ্যনিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য ও জনবসতির ওপর হুমকি আরও বাড়তে পারে।