
চকরিয়ায় মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আরোহী নিহত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ১৭:৩

সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। ছবি: সংগৃহীত
নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি দক্ষতা, পরিচ্ছন্ন ও সবুজ শিল্প-পরিবহন এবং জলবায়ু-সহনশীল প্রযুক্তিতে সাশ্রয়ী প্রবেশাধিকার চাইবে বাংলাদেশ। তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সম্মেলন কপ-৩১-এ এসব বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সম্মেলন কপ-৩১-এ যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তুরস্কের আনতালিয়ায় যাচ্ছেন। আগামী ১০ নভেম্বর রাতে তিনি ঢাকা ছাড়বেন। সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন এবং বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন।’
তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, লবণাক্ততা, খরা ও তাপপ্রবাহ বাংলাদেশের মানুষের জীবন, জীবিকা ও উন্নয়নকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলছে। এমন পরিস্থিতিতে জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা মানুষের স্বার্থ, বাংলাদেশের জাতীয় অগ্রাধিকার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পর্যায়ে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করবে প্রধানমন্ত্রীর কপ-৩১ সম্মেলনে অংশগ্রহণ।’
কপ-৩১ থেকে বাংলাদেশের প্রত্যাশা তুলে ধরে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং মানুষের জীবন-জীবিকা সুরক্ষায় অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন সহায়তার সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি চায় বাংলাদেশ। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার মতামত এবং জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে এরই মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থানপত্র তৈরি করা হয়েছে। সম্মেলনে অংশ নেওয়া স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জোট, জি-৭৭ ও চীন এবং সমমনা জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে জাতীয় স্বার্থে কাজ করবে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘কপ-৩১-এ বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার থাকবে জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং সহজে অর্থ পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা। উন্নত দেশগুলোর প্রতিশ্রুত অর্থায়নের পাশাপাশি নতুন অর্থায়ন লক্ষ্যের আলোকে পর্যাপ্ত, পূর্বানুমানযোগ্য ও প্রধানত অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন চাইবে বাংলাদেশ। বিশেষ করে অভিযোজন এবং লস অ্যান্ড ড্যামেজ মোকাবিলায় অনুদান বাড়ানো ও জলবায়ু তহবিলের আবেদন এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানানো হবে।’
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড থেকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য দ্রুত এবং সহজে অনুদান পাওয়ার ব্যবস্থা জোরদারের পক্ষেও অবস্থান নেবে বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি বাস্তুচ্যুতি, জীবিকা হারানোসহ অন্যান্য অ-আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় নতুন ও অতিরিক্ত সহায়তা চাওয়া হবে বলে জানান তিনি।
সম্মেলনে বাংলাদেশের একটি প্যাভিলিয়ন স্থাপন করা হয়েছে জানিয়ে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ‘সেখানে পাট ও পাটজাত পণ্যের প্রদর্শনীরও আয়োজন থাকবে।’