
স্কুল-কলেজে মাদক ও ইভটিজিং প্রতিরোধ কমিটি গঠনের নির্দেশ
মহানগর ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ১৮:২

১ম থেকে ১২তম নিবন্ধনধারী শিক্ষকদের সরকারের নির্বাহী আদেশে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুপারিশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।
রোববার (৮ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। বৈঠক শেষে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রাশেদ মিজানের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) ১ থেকে ১২তম নিবন্ধনধারীদের বিষয়ে নেয়া সবশেষ সিদ্ধান্ত কমিটিকে অবহিত করা হয়। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে কমিটি এই নিবন্ধনধারীদের অবিলম্বে নির্বাহী আদেশে নিয়োগের ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করেছে।
এ ছাড়া বৈঠকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, সহকারী প্রধান শিক্ষক, অধ্যক্ষ ও সুপারসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে নিয়োগসংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য স্থায়ী কমিটিকে জানায় এনটিআরসিএ। সংস্থাটি জানায়, চলমান এসব নিয়োগ প্রক্রিয়ার মৌখিক পরীক্ষা চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ করা হবে।
বৈঠকে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড চট্টগ্রামের সার্বিক কার্যক্রম এবং কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ারও সুপারিশ করা হয়।
কমিটির সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ছাড়াও বৈঠকে অংশ নেন মোছা. তাহসিনা রুশদীর, মো. সেলিমুজ্জামান মোল্যা, মো. জাহান্দার আলী মিঞা, বীথিকা বিনতে হোসাইন, মো. মুজিবুর রহমান এবং আতিকুর রহমান মোজাহিদ।
এ সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, মঞ্জুরি কমিশনের প্রতিনিধি, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড ও অধিদফতরের প্রধানসহ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে ১ম থেকে ১২তম শিক্ষক নিবন্ধনধারীদের নিয়োগের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বঞ্চিত শিক্ষকেরা।
রোববার (৮ নভেম্বর) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের নেতারা। লিখিত বক্তব্যে তারা জানান, ২০০৫ সাল থেকে সনদ দেয়া হলেও এনটিআরসিএর বিভিন্ন নীতিমালা পরিবর্তন, ভাইভা নম্বরের তারতম্য ও বয়সের বাধ্যবাধকতার কারণে ১-১২তম ব্যাচের একটা বড় অংশ পদে পদে বৈষম্যের শিকার হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকরা জানান, ২০১৭ সালে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ২০১৮ সালের ১২ জুনের আগে সনদপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা শিথিলযোগ্য। অথচ নানা আইনি জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে তারা নিয়োগ থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। বিগত সরকারের আমলে শাহবাগে টানা ২০৩ দিন আন্দোলন করলেও তাদের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।
শিক্ষক নেতারা বলেন, ১৩তম ব্যাচের ২ হাজার ২০৭ জন প্রার্থী যদি আদালতের আদেশে নিয়োগের সুযোগ পান, তবে ১-১২তম ব্যাচের ক্ষতিগ্রস্ত প্রার্থীরাও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রাখেন। এ জটিলতা নিরসনে তারা আদালতের রায় বাস্তবায়ন ও নির্বাহী আদেশে দ্রুত নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানান।