
ইসরাইলি আরব কারা, নির্বাচনে তারা কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলো?
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৩

ভূখণ্ডগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও তেলের রাজনীতির জের ধরে ফের আলোচনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভেনেজুয়েলার সঙ্গে তেলের চুক্তিকে ঐতিহাসিক সাফল্য আখ্যা দিয়ে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্যে পরিণত হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। টেক্সাসের করপাস ক্রিস্টিতে আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প এ সম্ভাবনার কথা জানান।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের করপাস ক্রিস্টিতে আয়োজিত এক নির্বাচনি সমাবেশে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে জ্বালানি চুক্তির ভূয়সী প্রশংসা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সমাবেশে উপকূলে নোঙর করা একটি তেলবাহী জাহাজ দেখিয়ে তিনি দাবি করেন, ভেনেজুয়েলা থেকে আনা ১০ লাখ ব্যারেল তেল রয়েছে সেখানে। এই চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের এক ডলারও খরচ করতে হয়নি উল্লেখ করে বিষয়টিকে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেলবিজয়’ বলে অভিহিত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলা সামনে একটি সমৃদ্ধশালী দেশে পরিণত হবে। এমনকি শিগগিরই দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হয়ে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। এমন সম্ভাবনাকে সরাসরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের গত জানুয়ারিতে এক সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে আটক করে নিয়ে যায় মার্কিন বাহিনী। এরপর দেশটির গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে এই তেল চুক্তি সম্পন্ন করে ওয়াশিংটন।
তবে এই চুক্তির তীব্র সমালোচনা করছেন আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের অভিযোগ, ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা কিংবা স্থিতিশীলতা ফেরানোর চেয়ে দেশটির তেল সম্পদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতেই বেশি আগ্রহী ট্রাম্প প্রশাসন।
অন্য দেশের অঞ্চল বা ভূখণ্ড নিয়ে ট্রাম্পের এমন বিতর্কিত বক্তব্য এটিই প্রথম নয়। এর আগে কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি। এছাড়া মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড এবং পানামা খালের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ফিরিয়ে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেও বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বর্তমানে ইরানের সঙ্গে সামরিক উত্তেজনা এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে রাজনৈতিকভাবে বেশ চাপে রয়েছেন ট্রাম্প। আর এই রাজনৈতিক চাপ সামাল দিতেই ভেনেজুয়েলার তেল চুক্তিকে নিজের সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে প্রচার করছেন এবং এর ফলে তেলের দাম দ্রুত কমে আসবে বলে আশ্বাস দিচ্ছেন তিনি।