
নেতানিয়াহুকে রাজনীতি ছাড়ার আহ্বান
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:১৭

ফ্লাভিও বলসোনারো। ছবি: রয়টার্স
ট্রাম্প প্রশাসন ব্রাজিলের সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো এবং তার পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দিয়ে ভিসা ইস্যু করবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর বলসোনারো ব্রাজিল ছেড়ে পালিয়ে গেছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর এ তথ্য সামনে এলো।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এ খবর পাওয়া যায়, যার একদিন আগে অর্থপাচারের অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট বলসোনারোকে তার পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে বলসোনারো কোনো ধরনের অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সোমবার তিনি বলেন, ‘দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা আমি কখনো ভাবিনি।’ বিরোধী দলের নেতৃত্ব দিতে তিনি ব্রাজিলে থাকবেন বলেও জানান।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এর আগে বলসোনারো পরিবারের সদস্যদের রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের জন্য ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ কামনা করার অভিযোগ তুলেছিলেন। এবার তিনি ডানপন্থি এই সিনেটরের কর্মকাণ্ডকে লজ্জাজনক বলে অভিহিত করে বলেছেন, নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে বলসোনারোর দেশেই থাকা উচিত ছিল।
ব্রাসিলিয়ায় নিজের ৮১তম জন্মদিন উদ্যাপন অনুষ্ঠানে লুলা বলেন, ‘যে ব্যক্তি নিজের দেশ থেকে চুপিসারে পালিয়ে যায়, তার নিশ্চয়ই কিছু লুকানোর আছে।’ এ সময় তিনি আরও বলেন, বলসোনারো পরিবারের কাছে ব্রাজিল হলো ‘দ্বিতীয় দেশ’, আর যুক্তরাষ্ট্রই তাদের প্রথম দেশ।
সাবেক ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারো প্রথমে নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান এবং ফল বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন। তবে তার দল সোমবার এক বিবৃতিতে জানায়, তারা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছে। ওই নির্বাচনে রক্ষণশীল এই প্রার্থী ৪৪ লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ব্রাজিলের নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে প্রতিক্রিয়া জানান। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, নির্বাচনটি ‘আরেকটি কারচুপিপূর্ণ নির্বাচন বলে মনে হচ্ছে’।
তবে ভোটে অনিয়ম হয়েছে, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ভোটগ্রহণের সময়সীমা শেষ মুহূর্তে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচকেরা প্রশ্ন তুললেও, লুলার চূড়ান্ত বিজয় ছিল সুস্পষ্ট। ভোটগ্রহণের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নির্বাচনের ফল পরিবর্তন করার সম্ভাবনাও কম ছিল।
ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রতিনিধি পরিষদ সদস্য হোয়াকিন কাস্ত্রো বলেছেন, বলসোনারোর ব্রাজিল ত্যাগের ঘটনায় তার প্রশাসন কোনো ভূমিকা রেখেছে কি না, সে বিষয়ে ট্রাম্পের উচিত মার্কিন কংগ্রেসকে জানানো।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে কাস্ত্রো বলেন, ‘নির্বাচনে পরাজিত হওয়া আশ্রয় পাওয়ার কোনো ভিত্তি নয়। তা সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসন ফ্লাভিও বলসোনারোকে যুক্তরাষ্ট্রে নিরাপদ আশ্রয় দিচ্ছে। ব্রাজিলে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থপাচার ও বৈদেশিক মুদ্রা পাচারের অভিযোগ তদন্তাধীন। তাকে পাসপোর্ট জমা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘ব্রাজিলের আইন লঙ্ঘন করে বলসোনারোকে দেশ ছাড়তে সহায়তা করার ক্ষেত্রে নিজেদের ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে কংগ্রেসের কাছে জবাব দিতে হবে।’
বলসোনারোর ছোট ভাই এদুয়ার্দো বলসোনারো যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন। ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে অবৈধভাবে তদবির করার অভিযোগে গত জুনে তাকে অনুপস্থিতিতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। চলতি মাসের শুরুর দিকে পডকাস্ট উপস্থাপক স্টিভেন ক্রাউডারের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, নির্বাচনে ফ্লাভিও হেরে গেলে তার ব্রাজিল ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত।
এদুয়ার্দো বলেন, ‘আমার ভাই যদি জিততে না পারে, তাহলে আমি চাইব সে দেশ ছেড়ে চলে যাক।’
সূত্র: আল জাজিরা