
এআই নিয়ে বিল গেটসের শঙ্কা, পরদিনই মাইক্রোসফটে ৬০ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের উদ্যোগ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৪

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এবার ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছেন সাবেক মডেল ও সাবেক ‘মিস সুইজারল্যান্ড’ বিয়াত্রিস কিউল। তার দাবি, ১৯৯৩ সালে নিউইয়র্কের বিখ্যাত প্লাজা হোটেলে ট্রাম্প তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছিলেন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্যদের প্রকাশিত একটি তদন্ত প্রতিবেদনে এই তথ্য সামনে এসেছে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যৌন অপরাধে দণ্ডিত প্রয়াত জেফরি এপস্টেইনের সম্পর্ক এবং তাদের বিভিন্ন অপরাধের বিষয়ে ডেমোক্র্যাট কমিটির দীর্ঘ তদন্তের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মার্কিন নির্বাচনের আগে কিউল অভিযোগ করেছিলেন যে, ১৯৯৩ সালের নভেম্বরে প্লাজা হোটেলে ট্রাম্প তাকে যৌন হয়রানি করেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক তদন্তে ডেমোক্র্যাট কমিটির কর্মীদের কাছে সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, সে সময় ট্রাম্প তাকে শুধু যৌন হয়রানিই করেননি, বরং নির্মমভাবে ধর্ষণ করেছিলেন।
২৪ বছর বয়সে প্লাজা হোটেলে আয়োজিত এক সুন্দরী প্রতিযোগিতার সংবাদ সম্মেলনে তখনকার হোটেল মালিক ট্রাম্পের সঙ্গে তার পরিচয় হয় বলে জানান কিউল। ট্রাম্প তাকে মার্কিন ভিসা ও নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে (এনওয়াইইউ) ভর্তির আশ্বাস দিয়ে বলেছিলেন, 'আমি তোমার দেখভাল করব।' এরপর ট্রাম্পের এক প্রতিনিধির আমন্ত্রণে তিনি হোটেলের ওপরের তলায় ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করতে গেলে ট্রাম্প তাকে পিছন থেকে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক এক সপ্তাহ আগে ডেমোক্র্যাটদের এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ায় দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য জেমি রাসকিন এক বিবৃতিতে বলেন, 'কমপক্ষে পাঁচজন নারী অভিযোগ করেছেন যে ট্রাম্প তাদের ধর্ষণ বা যৌন নিপীড়ন করেছেন। তবে ট্রাম্পের বিচার বিভাগ এসব ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে মনে হচ্ছে।'
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তা পুরোপুরি অস্বীকার করেছে হোয়াইট হাউস। ট্রাম্প প্রশাসনের এক মুখপাত্র অভিযোগগুলোকে ‘উন্মত্ত ডেমোক্র্যাটদের মরিয়া রাজনৈতিক চেষ্টা’ বলে অভিহিত করেছেন।
হোয়াইট হাউসের দাবি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঐতিহাসিক সাফল্য এবং রিপাবলিকান পার্টির ক্রমবর্ধমান সমর্থন থেকে মার্কিন নাগরিকদের মনোযোগ অন্য দিকে সরাতেই ডেমোক্র্যাটরা এসব পুরনো ও মিথ্যা অভিযোগ সামনে আনছে। ট্রাম্পের প্রেস উইং থেকে আরও জানানো হয়, এপস্টেইন-সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে ট্রাম্পকে আগেই ‘সম্পূর্ণ দায়মুক্ত’ করা হয়েছে।