
স্তন ক্যানসারের কাছে হার মানলেন ‘টেলর রেড’ ব্যান্ডের নিকোল
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৫:৩৩

প্রয়াত পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসন ও তার মেয়ে প্যারিস জ্যাকসন। ছবি: সংগৃহীত
পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যুর ১৭ বছর পেরিয়ে গেলেও তার সম্পদের উত্তরাধিকার নিয়ে নতুন করে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। বাবার বিপুল সম্পদ থেকে নিজেদের পারিবারিক ট্রাস্টের জন্য ৬০০ মিলিয়ন ডলার দাবি করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন মাইকেলের মেয়ে প্যারিস জ্যাকসন। তার অভিযোগ, বাবার মৃত্যুর পর থেকে এস্টেট বিভিন্ন ব্যবসায়িক চুক্তির মাধ্যমে বিপুল অর্থ আয় করলেও সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য গঠিত ট্রাস্টে এখনো কোনো অর্থ জমা দেয়া হয়নি।
গত ২৯ অক্টোবর লস অ্যাঞ্জেলেসের আদালতে করা এক আবেদনে প্যারিস দাবি করেন, ২০০৯ সালে মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যুর পর তার এস্টেট বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। অথচ তার ও দুই ভাই প্রিন্স এবং বিগির ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য গঠিত পারিবারিক ট্রাস্ট এখনো কার্যত শূন্য।
মাইকেল জ্যাকসনের তিন সন্তানকে আর্থিক নিরাপত্তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, ২১ বছর বয়স পূর্ণ হলে সন্তানদের নিজ নিজ অংশের আয় পাওয়ার কথা। পাশাপাশি ৩০, ৩৫ ও ৪০ বছর বয়সে মূল অর্থের নির্দিষ্ট অংশ পাওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু প্যারিসের দাবি, বাবার মৃত্যুর এত বছর পরও সেই ব্যবস্থা কার্যকর হয়নি।
বর্তমানে বড় ছেলে প্রিন্সের বয়স ৩০-এর কাছাকাছি, প্যারিসের ২৯ এবং ছোট ছেলে বিগির বয়স ২৫ হতে চলেছে। অথচ নিজেদের প্রাপ্য সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে এখনো এস্টেটের একমাত্র নির্বাহক জন ব্রাঙ্কার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে তাদের।
প্যারিসের আইনজীবীদের দাবি, গত কয়েক বছরে একাধিক বড় ব্যবসায়িক চুক্তির মাধ্যমে মাইকেল জ্যাকসনের এস্টেট বিপুল অর্থ আয় করেছে। এর মধ্যে ২০১৮ সালে ২৮৭ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারে ইএমআই মিউজিকের শেয়ার বিক্রি, ২০২০ সালে ২২ মিলিয়ন ডলারে নেভারল্যান্ড রেঞ্চ বিক্রি এবং ২০২৩ সালে সনির সঙ্গে মাইকেলের গানের স্বত্ব নিয়ে চুক্তি উল্লেখযোগ্য।
এসব লেনদেন থেকে কর ও আনুষঙ্গিক ব্যয় বাদ দিয়েও এস্টেটের আয় এক বিলিয়ন ডলারের বেশি। বর্তমানে সম্পত্তিটির মোট মূল্য দুই থেকে তিন বিলিয়ন ডলার বলে দাবি করা হয়েছে।
আদালতে দেওয়া আবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এস্টেটের হাতে প্রায় ৮৫০ মিলিয়ন ডলার নগদ অর্থ ছিল। সম্ভাব্য দায়দেনা মেটানোর পরও সেখান থেকে অন্তত ৬০০ মিলিয়ন ডলার পারিবারিক ট্রাস্টে স্থানান্তর করা সম্ভব। প্যারিসের অভিযোগ, ২০১১ সালে এস্টেটের নির্বাহকেরা ট্রাস্টে অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি।
এদিকে এস্টেট পরিচালনা নিয়ে আপত্তি তোলার পর থেকেই তাকে প্রকাশ্যে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন প্যারিস। এমনকি তার ও ভাইদের জন্য বরাদ্দ ভাতার পরিমাণও কয়েক মিলিয়ন ডলার কমিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে প্যারিসের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে মাইকেল জ্যাকসনের এস্টেট কর্তৃপক্ষ। তাদের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রের কর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলারের চলমান আইনি বিরোধসহ বেশ কিছু আর্থিক বিষয় নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পুরো অর্থ ট্রাস্টে স্থানান্তর করা সম্ভব নয়।
এক বিবৃতিতে এস্টেট কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, সন্তানদের অর্থ আটকে রাখা বা তাদের বরাদ্দ কমিয়ে দেয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন। এরই মধ্যে সন্তানদের কল্যাণে ২০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। মাইকেলের ইচ্ছাপত্র অনুযায়ী, ৩০ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগে সন্তানদের কেউই সম্পদের বড় অংশ পাওয়ার অধিকারী নন।
বাবার মৃত্যুর প্রায় দেড় যুগ পরও তার বিপুল সম্পদের উত্তরাধিকার নিয়ে সন্তানদের এমন আইনি লড়াই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আগামী ৪ ডিসেম্বর লস অ্যাঞ্জেলেসের আদালতে প্যারিস জ্যাকসনের আবেদনের ওপর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, পপসম্রাটের সম্পদ নিয়ে এই বিরোধে শেষ পর্যন্ত আদালত কী সিদ্ধান্ত দেন।