
কোথায় চাঁদাবাজি? কেউ বলতে পারবে না জোর করে টাকা তুলছি: এমপি আমিনুল
বরিশাল ব্যুরো
প্রকাশ: রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩:৩১

বরিশালের হিজলায় সন্তান না হওয়ার অভিযোগে সাত বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টেনেছেন এক স্বামী। সংসার টিকিয়ে রাখতে সালিশ বৈঠকে সবার সামনে স্বামীর পা ধরে কান্নাকাটি করেও মন গলাতে পারেননি স্ত্রী ইতি আক্তার (২৫)। স্বামী রণি খান (৩০) তালাকের সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদ মেনে নিতে হয়েছে তাকে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) রাতে হিজলা থানা-সংলগ্ন একটি ফাঁকা দোকানে দুই পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে এই সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে হিজলা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আলী আজগরও উপস্থিত ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, হিজলা উপজেলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের মাসকাটা গ্রামের রিকিম আলী সরদারের মেয়ে ইতি আক্তারের সঙ্গে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার বামনেরচর গ্রামের কাজল খানের ছেলে রণি খানের সাত বছর আগে সামাজিকভাবে বিয়ে হয়। রণি পেশায় তৈরি পোশাকশ্রমিক। বিয়ের পর থেকে তারা নরসিংদীর মাধবদী থানার চৌদ্দপাইকা এলাকায় বসবাস করতেন।
বিয়ের দীর্ঘ সাত বছরেও সন্তান না হওয়ায় তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহের সৃষ্টি হয়। এ জন্য ইতিকেই দায়ী করে আসছিলেন স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা। একপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে হিজলা থানায় অভিযোগ করেন ইতি। পরে এসআই আলী আজগর দুই পক্ষকে নিয়ে কয়েক দফা আলোচনায় বসেন।
ইতির ভাই জুলহাস জানান, পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শনিবার রাতে আবারও সালিশ বৈঠক বসে। সেখানে রণি তালাকের সিদ্ধান্ত জানালে তার বোন স্বামীর পা ধরে সংসার টিকিয়ে রাখার আকুতি জানান। অনেক কান্নাকাটি করেও স্বামীর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করাতে পারেননি তিনি।
ইতি আক্তার বলেন, চিকিৎসক কখনো তাকে সন্তান ধারণে অক্ষম বলে জানাননি। চিকিৎসার জন্য আইভিএফ পরীক্ষায় পাঁচ লাখ টাকা খরচের কথা বলা হয়েছিল। তার বাবা সেই টাকা দিতেও রাজি ছিলেন।
ইতি বলেন, ‘আমি স্বামীর পা ধরে অন্তত ছয় মাস সময় চেয়েছিলাম। কিন্তু তিনি রাজি হননি।’
সালিশ বৈঠকে এসআই আলী আজগরের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ করেন ইতি। তার দাবি, শুরু থেকেই ওই পুলিশ কর্মকর্তা স্বামীর পক্ষ নিয়েছেন। তার বক্তব্য না শুনেই স্বামীকে উদ্দেশ করে ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে স্ত্রীকে রাখবেন কি না, এমন প্রশ্ন করেন ওই কর্মকর্তা।
সালিশে উপস্থিত হিজলা উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক আল মামুন বলেন, দুই পক্ষকে বুঝিয়ে সংসারটি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে এসআই আলী আজগর অতিরিক্ত উৎসাহ দেখিয়ে তালাকের ব্যবস্থা করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এসআই মো. আলী আজগর। তিনি বলেন, ইতির পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করা হয়। সংসার টিকিয়ে রাখার জন্য দুই পক্ষকেই কাউন্সেলিং করা হয়েছে। শনিবার রাতের সালিশ বৈঠকেও তিনি উপস্থিত ছিলেন।
সাত বছরের সংসার ভেঙে যাওয়ায় ইতি ও তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। সন্তান না হওয়ার বিষয়কে কেন্দ্র করে বিচ্ছেদের ঘটনা এবং সালিশে পুলিশ কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে।