
বঙ্গোপসাগরে নতুন লঘুচাপের আভাস, সারা দেশে বৃষ্টির সম্ভবনা
পটুয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭:২৪

একসঙ্গে পূজার ছুটিতে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু পথেই ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। বাড়ি ফিরেছেন বাবা-মেয়ে, তবে জীবিত নয়—নিথর দেহে। বাড়ির আঙিনায় পাশাপাশি চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন তারা। অন্যদিকে স্বামী ও মেয়েকে হারানোর খবর এখনো জানেন না হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্ত্রী ও ছেলে।
নাটোরে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ব্র্যাক ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম (৫০) ও তার মেয়ে তাছফিয়া আক্তারের (৯) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (২২ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে হযরত ইয়ার উদ্দিন খলিফা (র.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে তাদের বাড়ির আঙিনায় দাফন করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাবা-মেয়ের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছায়। মির্জাগঞ্জ উপজেলার মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে থানা-সংলগ্ন এলাকায় তাঁদের বাড়ি।
এদিকে একই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত শহিদুলের স্ত্রী মোসা. রুবিনা আক্তার (৪০) ও ছেলে লাবিব (১১) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে বাবা ও বোনের মৃত্যুর খবর এখনো তাদের জানানো হয়নি। এর আগে তাদের নাটোর ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
শহিদুল ইসলাম মাগুরায় ব্র্যাক ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক ছিলেন। তার স্ত্রী রুবিনা আক্তার মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী পূবালী ব্যাংক শাখার কর্মকর্তা বলে জানা গেছে।
নিহত শহিদুলের বড় ভাই মো. ফারুক হাওলাদার জানান, পূজার ছুটিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাজশাহীতে ভায়রার বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিলেন শহিদুল। গত সোমবার বিকেল চারটার দিকে স্ত্রী রুবিনা আক্তার মেয়ে তাছফিয়া ও ছেলে লাবিবকে নিয়ে মির্জাগঞ্জ থেকে স্বামীর কর্মস্থল মাগুরায় যান। সেখান থেকে মঙ্গলবার সকালে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাসে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হন শহিদুল।
পথে নাটোরে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির ট্রাকের সঙ্গে তাদের বহনকারী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই শহিদুল ও তার মেয়ে তাছফিয়ার মৃত্যু হয়।
ফারুক হাওলাদার বলেন, ‘একটা দুর্ঘটনায় সব শেষ হয়ে গেল। আমার ভাই শহিদুল ইসলাম ও ভাতিজি তাছফিয়া ঘটনাস্থলেই মারা গেছে। অন্যদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে শহিদুলের স্ত্রী রুবিনা ও ছেলে লাবিব। এখন পর্যন্ত মৃত্যুর ঘটনা তাদের জানানো হয়নি।’
গত মঙ্গলবার ভোর চারটার দিকে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১২ জন নিহত হন। আহত হন অন্তত ৩২ জন।
বাবা-মেয়ের জানাজা ও দাফনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘নিহত পরিবারের পক্ষ থেকে থানা-পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়নি। পুলিশ স্বপ্রণোদিত হয়ে তাদের খোঁজখবর নিয়েছে। জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করতে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে।’