
থানায় ঢুকে পুলিশ পেটানো সেই যুবক জেল হাজতে
প্রতিবেদক, শরীয়তপুর
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:৪৭

নাটোরে বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষের পর বিধ্বস্ত বাস। ছবি: সময় সংবাদ
নাটোরে যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পাঁচ ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। ব্যবসায়িক কাজে কৃষিপণ্য কিনতে রাজশাহীর তাহেরপুরে যাওয়ার পথে তারা এ দুর্ঘটনার শিকার হন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোরে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ার নাটোর-পাবনা মহাসড়কের সরকারপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এতে যানবাহন দুটির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এ দুর্ঘটনায় মোট ১৪ জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও উদ্ধারকর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান।
নিহত পাঁচ ব্যবসায়ী হলেন- জাজিরা উপজেলার রামকৃষ্ণপুর মাদবরকান্দি এলাকার জহির উদ্দিন মাদবরের ছেলে জুয়েল মাদবর, ডুবিসায়বর মোল্যাকান্দি এলাকার জাহান উদ্দিন মোল্যার ছেলে সালাল মোল্যা, ডুবিসায়বর কাজিরহাট এলাকার ইউনুস শিকদারের ছেলে সোহাগ শিকদার, কাজিরহাট এলাকার ভুসামাল ব্যবসায়ী সামাদ ফকির এবং পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া এলাকার রাজ্জাক বেপারীর ছেলে শাহিন বেপারী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত পাঁচজনই দীর্ঘদিন ধরে জাজিরার কাজিরহাটসহ আশপাশের এলাকায় ব্যবসা করে আসছিলেন। তাদের মধ্যে জুয়েল মাদবর ভুসামাল ব্যবসার পাশাপাশি কাজিরহাটে রড-সিমেন্টের ব্যবসা করতেন। সামাদ ফকির ছিলেন ভুসামাল ব্যবসায়ী এবং শাহিন বেপারী হলুদের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অন্যদিকে সালাল মোল্যা ও সোহাগ শিকদার বিভিন্ন কৃষিপণ্য কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ব্যবসায়িক প্রয়োজনে রাজশাহীর তাহেরপুর থেকে ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুন, ধনিয়া ও অন্যান্য কৃষিপণ্য কিনতে যাচ্ছিলেন তারা। তবে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান এই পাঁচ ব্যবসায়ী।
একই এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী হওয়ায় তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক ছিল। পাঁচজনের একসঙ্গে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর নিজ এলাকায় পৌঁছালে পরিবার, স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের মাতম শুরু হয়। শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলেও।
কাজিরহাটের ব্যবসায়ী দিদার সরদার বলেন, ‘ব্যবসার কারণে তাদের সবার সঙ্গেই আমার পরিচয় ও সুসম্পর্ক ছিল। তাদের এমন মৃত্যুর খবর খুবই কষ্টদায়ক।’
এ বিষয়ে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালেহ আহম্মেদ বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুর্ঘটনার বিষয়টি জেনেছি। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের এখনো কিছু জানানো হয়নি। মরদেহ জাজিরায় নিয়ে আসার বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’