
সাতসকালে রাজধানীর সড়কে প্রাণ গেল দুই নারীর
সঞ্জয় কর্মকার অভিজিৎ
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৩১

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুর অংশে সৃষ্টি হওয়া খানাখন্দ ও সড়ক মেরামতের চিত্র। ছবি: সময় সংবাদ
পদ্মা সেতু চালুর পর দুই থেকে তিন গুণ যানবাহনের চাপ বাড়লেও আধুনিকায়ন হয়নি ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক। ফলে মাদারীপুরের ৪৭ কিলোমিটার অংশে অতিরিক্ত গাড়ি চলাচলে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দ। ঝুঁকিপূর্ণ এই সড়কে দুর্ঘটনায় চলতি বছরেই মৃত্যু হয়েছে ৩০ জনের।
বছর বছর বালু, পাথর আর সুরকি দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে মেরামত করা হলেও তা বেশিদিন টিকছে না। অবশ্য দরপত্র আহ্বানের কাজ শেষ হয়েছে উল্লেখ করে শিগগিরই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের কথা জানিয়েছে সড়ক বিভাগ।
সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের কোথাও উঁচু, আবার কোথাও নিচু। খানাখন্দের কারণে হেলেদুলে চলছে গাড়ি, ফলে ঝুঁকিতে রয়েছেন যাত্রী ও চালকরা। ফরিদপুরের ভাঙা থেকে মাদারীপুরের কালকিনির ভূরঘাটা পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার অংশ মাদারীপুর সড়ক বিভাগের আওতায়। এ সড়কের অধিকাংশ জায়গায় পিচ উঠে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বারবারই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো সড়ক সংস্কারের সময় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় অল্পদিনেই আবারও গর্তের সৃষ্টি হয়। ফলে পুরো সড়ক পরিণত হয়েছে মরণফাঁদে। তাই নিরাপদে গন্তব্যে যাতায়াতে শঙ্কা বাড়ছে।
জানা যায়, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন অন্তত ৩০ হাজার যানবাহন চলাচল করে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দুই থেকে আড়াই লাখ মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যাতায়াতের একমাত্র সড়কপথ এটি। গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কের এমন অবস্থায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে ২০টি দুর্ঘটনায় অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন কয়েকশ মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কে রয়েছেন যাত্রী, চালক ও এলাকাবাসী।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানিয়েছে, টেকেরহাট, মোস্তফাপুর, তাঁতিবাড়ি ও ভূরঘাটা এলাকায় আরসিসি এবং মোস্তফাপুর-পান্তাপাড়া হয়ে পাথুরিয়ারপাড় পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার অংশ টেকসই মেরামতে চলতি অর্থবছরে ৬৩ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।
সাকুরা পরিবহনের চালক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুর অংশের বেহাল দশা। প্রতি মুহূর্তেই আতঙ্কে থাকি। ধীরগতিতে গাড়ি চালালে যাত্রীরা বিরক্ত হন। আর গতি বাড়ালে দুর্ঘটনার ভয় থাকে। আমরা চালকরা আছি মহাবিপদে।’
বিএম পরিবহনের সুপারভাইজার সৈয়দ বাবু বলেন, ‘প্রতিবছরই এই সড়ক মেরামত করে। কিন্তু এক বৃষ্টিতেই আবারও খানাখন্দ তৈরি হয়। কবে আমরা এর থেকে স্থায়ী মুক্তি পাব, সেটি জানা নেই।’
বরিশাল থেকে ঢাকাগামী যাত্রী কবিতা আক্তার বলেন, ‘সড়কের যে অবস্থা, তাতে সুস্থ মানুষ যাতায়াতের সময় অসুস্থ হয়ে যান। একটু পরপর গর্ত আর খানাখন্দ। এটি দেখার যেন কেউই নেই।’
মাদারীপুর সদর উপজেলার কুলপদ্বী থেকে ঢাকায় যাতায়াতকারী রিপন মিয়া বলেন, ‘সড়ক দিয়ে যাতায়াতের সময় দেখি, প্রতিনিয়তই সড়ক মেরামত বা সংস্কারের কাজ চলমান থাকে। কিন্তু সড়কে কোনো টেকসই উন্নয়ন হয় না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে সঠিকভাবে কাজ আদায় করা গেলে সড়কটির খানাখন্দ কমে যাবে।’
মাদারীপুরের সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খ ম নকিবুল বারি জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে নিজস্ব অর্থায়নে ইট, পাথর, সুরকি আর বালু দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান মেরামত করা হচ্ছে। এরইমধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হয়ে গেছে। শিগগিরই সড়কটিতে পুরোদমে সংস্কারকাজ শুরু হবে। ফলে ভোগান্তি কমে যাবে।