
সিজেপির কর্মসূচি ঘিরে দিল্লিতে ৩২ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৮

ফুটেজে দেখা গেছে, সমুদ্রের বুকে শিপিং কন্টেইনার ভাসছে এবং তার চারপাশে ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য ছোট ছোট বস্তু। ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কিছু ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে হরমুজ প্রণালীতে বহু আইফোন ভাসমান অবস্থায় দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে। কৌশলগত এই বাণিজ্যিক রুটে জাহাজগুলোর ওপর ইরানের সাম্প্রতিক হামলার ঘটনার পরই এই দৃশ্য সামনে এলো।
ফুটেজে দেখা যায়, সমুদ্রের বুকে শিপিং কন্টেইনার ভাসছে এবং তার চারপাশে ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য ছোট ছোট বস্তু। এসময় ছোট ছোট নৌকায় করে আসা ব্যক্তিদের (যাদের পরিচয় এখনো স্পষ্ট নয়) পানিতে ছড়িয়ে থাকা ‘মূল্যবান সামগ্রী’ সংগ্রহ করতে দেখা যায়। নৌকাগুলোর একটিতে আইফোনের বাক্স বোঝাই রয়েছে বলেও দেখা যায় ছবিতে। এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ডিভাইসগুলো অ্যাপলের সবশেষ মডেল, অর্থাৎ আইফোন ১৮।
হরমুজ প্রণালীতে ছড়িয়ে থাকা কন্টেইনারগুলোর উৎস অস্পষ্টই রয়ে গেছে। তবে ইরান কর্তৃক একটি জাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ার একদিন পরই এই ফুটেজটি সামনে এলো। ইরানের ভাষ্যমতে, জাহাজটি তাদের অনুমতি ছাড়াই একটি ‘বিপজ্জনক পথে’ প্রবেশ করেছিল এবং সেখানে একটি মাইন বিস্ফোরণের ফলে সেটি ডুবে যায়। জাহাজটিতে ২,৫০০ কন্টেইনার ছিল।
ইরানি প্রতিবেদনগুলোতে জাহাজটির পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি। তবে রয়টার্স বুধবার সামুদ্রিক শিল্প খাতের সূত্রের বরাতে জানায়, সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী ‘জিএফএস প্রাইড’ নামের একটি কন্টেইনার জাহাজ প্রজেক্টাইলের (ক্ষেপণাস্ত্র বা গোলা জাতীয় বস্তু) আঘাতে ডুবে গেছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, জাহাজটি আগে থেকে পেতে রাখা কোনো মাইন বা বিস্ফোরকের ওপর পড়ার পরিবর্তে সরাসরি হামলার শিকার হয়েছে।
সিঙ্গাপুর নিশ্চিত করেছে যে জাহাজটিতে আগুন লাগার পর সেটি ডুবে গেছে। তবে তারা আরও জানিয়েছে, জাহাজের ২১ জন ক্রু সদস্যকেই নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার সময় সিঙ্গাপুরের দুটি কার্গো জাহাজ মঙ্গলবার ও বুধবার হামলার শিকার হয়। এর মধ্যে দ্বিতীয় জাহাজটি তার গন্তব্যের দিকে যাত্রা অব্যাহত রেখেছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে হরমুজ প্রণালীতে ডুবে যাওয়া দ্বিতীয় জাহাজটি হলো ‘জিএফএস প্রাইড’। এছাড়া, ২৩ সেপ্টেম্বর আগের একটি হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী ‘কেপ দাও’ নামের তৃতীয় আরেকটি জাহাজও ডুবে যায়।
ইরান যুদ্ধের পুরো সময়জুড়ে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার প্রচেষ্টায় অসংখ্য জাহাজে হামলা চালিয়েছে। তবে এসব হামলার ফলে জাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। প্রতিবেদন অনুসারে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র তিনটি জাহাজ ডুবেছে, যার মধ্যে সর্বশেষ আক্রান্ত দুটি জাহাজও অন্তর্ভুক্ত।
হরমুজের জলরাশিতে যে আইফোন ও অন্যান্য পণ্য ভেসে থাকতে দেখা যাওয়ার দাবি করা হচ্ছে, সেগুলো ‘জিএফএস প্রাইড’ জাহাজের হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, পানির ওপর বিলাসবহুল সুগন্ধি এবং অন্যান্য পণ্যও ভেসে ছিল।
সূত্র: ওয়াইনেট নিউজ