
মরণফাঁদে পরিণত ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক, চলতি বছরে ৩০ জনের মৃত্যু
মহানগর ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৮:২৬

জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা কারণে বিশ্বজুড়েই বাড়ছে দূষণের মাত্রা। এর প্রভাব থেকে মুক্ত নয় বাংলাদেশও। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার বাতাসে দূষণের মাত্রা যেন কমছেই না। টানা কয়েকদিন ধরেই অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে রয়েছে ঢাকার বায়ুমান। ছুটির দিনেও নগরীর বাতাস কতটা দূষিত, সেই প্রশ্নই এখন সামনে আসছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সূচকের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান চতুর্থ। শহরটির বায়ুমানের স্কোর ছিল ১৮১, যা অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমান ওঠানামা করতে পারে।
একই সময়ে তালিকার শীর্ষে থাকা সিঙ্গাপুরের সিঙ্গাপুর শহরেও বায়ুদূষণের ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে। শহরটির বায়ুমান সূচক (একিউআই) ছিল ২৩৬, যা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত।
এদিকে, শুধু ঢাকার বায়ুমান অস্বাস্থ্যকর নয়, তালিকায় এমন আরও ১০টি শহর রয়েছে। এগুলো হলো- ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা, পাকিস্তানের লাহোর, মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর, আরব আমিরাতের দুবাই, ইতালির মিলান, ভারতের কলকাতা, মুম্বাই ও দিল্লি, বাহরাইনের মানামা এবং ভিয়েতনামের হেনোয় শহর।
আর বায়ুমান সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর, তালিকায় এমন শহর রয়েছে ১৩টি। এগুলো হলো- ভিয়েতনামের হো চি মিন, ইরাকের বাগদাদ, ইসরাইলের তেল আবিব-ইয়াফো ও জেরুজালেম, ইন্দোনেশিয়ার মেদান, কুয়েতের কুয়েত সিটি, কাতারের দোহা, আজারবাইজানের বাকু, কঙ্গোর কিনশাসা, পাকিস্তানের করাচি, নেপালের কাঠমান্ডু, চীনের হাংজু এবং উজবেকিস্তানের তাসকেন্ত।
একিউআইয়ের মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর ১৫১ থেকে ২০০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মানকে অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ধরনের বায়ু সবার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হলেও শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের ঝুঁকি বেশি।
ঢাকার বায়ুদূষণের পেছনে অপরিকল্পিত নির্মাণকাজ, যানবাহনের ধোঁয়া ও ধুলাবালিসহ বিভিন্ন কারণকে দায়ী করা হয়। এসব দূষণকারী উপাদান বায়ুর মানের অবনতি ঘটিয়ে নগরবাসীর স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি ও ফুসফুসের বিভিন্ন সমস্যা এই বায়ুদূষণের কারণে বাড়তে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নির্মাণকাজে ধুলা নিয়ন্ত্রণ, যানবাহনের নির্গমন কমানো এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও পরিবেশবিষয়ক নীতিমালার যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঢাকার বায়ুর মান উন্নয়নে উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।