
আইএমএফের নতুন ঋণ নিয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত, আশাবাদী বাংলাদেশ
শওকত আলী সৈকত, নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৩

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফতুল্লার বিসিক শিল্পাঞ্চলে রফতানিমুখী গার্মেন্টস, নিটিং, ডাইং, প্রিন্টিং ও প্যাকেজিংসহ নিট পোশাক সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্যাটাগরির অন্তত ৭৫০ শিল্প কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় কর্মরত আছেন প্রায় ১০ লাখ শ্রমিক।
দেশের নিট পোশাক রফতানি খাত থেকে মোট আয়ের দুই তৃতীয়াংশ আয় হয়ে থাকে শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জ থেকে। যার প্রধান ক্ষেত্র ফতুল্লার বিসিক শিল্পাঞ্চল। গত তিন দশক ধরে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে এই শিল্পাঞ্চল।
তবে কয়েক বছর ধরে ব্যাংক ঋণ না পাওয়া, জ্বালানি সংকট ও কাস্টমসে জটিলতাসহ নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে বিসিক শিল্পাঞ্চলে গত এক বছরে বন্ধ হয়ে গেছে ৫৬টি গার্মেন্টস, ৯১টি নিটিং, ১৩টি প্রিন্টিং ও বেশ কয়েকটি ডাইংসহ ১৫০টি শিল্প কারখানা। কর্মহীন হয়ে পড়েছে লক্ষাধিক শ্রমিক।
রফতানি খাতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলার। এমন পরিস্থিতিতে আরও বেশ কিছু শিল্প কারখানা বন্ধ হওয়ার পথে। চালু কারখানাগুলো টিকিয়ে রাখার আশঙ্কায় আছেন শিল্প মালিকরা।
বাংলাদেশ নিটিং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সেলিম সারোয়ার সময় সংবাদকে বলেন, এই বিসিকেই আমাদের ৯১টি নিটিং ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে গেছে। অন্যান্য ফ্যাক্টরিগুলিও ধুঁকে ধুঁকে চলছে। এখনও অনেক ফ্যাক্টরি বন্ধ হবার অবস্থা চলছে। ফলে চালু প্রতিষ্ঠানগুলো টিকিয়ে রাখা যাবে কিনা এ নিয়ে আমরা শঙ্কিত।
সেলিম সারোয়ার আরও বলেন, গার্মেন্টসের সঙ্গে নিটিং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা পার্ট। নিটিংয় ফ্যাক্টরিতে তৈরি ফ্যাব্রিক্স (থান কাপড়) দিয়ে গার্মেন্টসের পোশাক তৈরি হয়। এভাবে একের পর এক নিটিং ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গার্মেন্টসগুলো ফ্যাব্রিক্স সংকটে ভুগছে। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং তৈরি পোশাক রফতানি কমে যাচ্ছে। তাই এই খাতকে রক্ষা করতে হলে সরকারের কাছে আমাদের দাবি হচ্ছে- প্রণোদনা, সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ প্রদান করা ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই। সরকার এই ব্যবস্থা করে দিলে বন্ধ হয়ে যাওয়া ফ্যাক্টরিগুলো পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সময় সংবাদকে বলেন, গার্মেন্টস রফতানি খাতকে টিকিয়ে রাখতে হলে এই মুহূর্তে আমাদের বাংলাদেশ ব্যাংকের সাপোর্ট সবচেয়ে বেশি দরকার। ব্যাংক সহযোগিতা না করলে গার্মেন্টস টিকিয়ে রাখা সম্ভব না। এছাড়া সরকারের কাছে আমাদের মূল দাবি হচ্ছে কাস্টমসে জটিলতা দূর করতে হবে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।