
‘লগি-বৈঠা’ দিয়ে হত্যাকাণ্ড: বিচার দাবিতে কুমিল্লায় জামায়াতের বিক্ষোভ
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৪২

নাফিজ তেহামি, ফারিয়া কবির ও ফাইজান নূরের জানাজা। ছবি: সময় সংবাদ
কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত তিনজনের দাফন নারায়ণগঞ্জে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে বাদ জোহর ফতুল্লার পোস্টঅফিস এলাকায় বায়তুল নাজাত জামে মসজিদে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
পরে ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুর কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। এসময় কান্নায় ভেঙে পড়েন শোকাহত পরিবারটির সদস্যরা।
গত ১৭ অক্টোবর কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মোট ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে একই পরিবারের নাফিজ তেহামি (২৪), তার বড় বোন ফারিয়া কবির (৩৩) এবং ফারিয়ার সাত বছর বয়সের ছেলে মো. ফাইজান নূরকে নারায়ণগঞ্জে দাফন করা হয়।
নিহত নাফিজ তেহামি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মাস্টার্স ইন চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কালচার’ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং ফারিয়ার ছেলে ফাইজান নূর চুয়াডাঙ্গার প্রদীপন মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠের কেজি-টু শ্রেণিতে পড়তো।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মোট ১০ জন কক্সবাজারে গিয়েছিলেন। এ ঘটনায় নিহতদের এক খালাতো বোন মেহজাবিনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় এবং অন্য দুই খালাতো বোন ইসরাত জাহান ও লায়লা জাহান নাবিলাকে টাঙ্গাইলের নাগরপুরে দাফন করা হয়েছে।
স্বজনরা জানান, নিহতদের দাদা ও নানার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। দাদার কবরের পাশেই তিনজনকে সমাহিত করা হয়েছে। নাফিজ তেহামির বাবা জিহাদুল কবির অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। ফারিয়া কবিরের স্বামী বেসরকারি চাকরিজীবী।
স্বজনরা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী নাফিজকে নিয়ে পরিবারের অনেক স্বপ্ন ছিল। কিন্তু একটি দুর্ঘটনা পরিবারের সবার স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছে এবং তাদের একটি প্রজন্ম শেষ হয়ে গেলো। এ ঘটনায় রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতিকে দায়ী করে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেন পরিবারের সদস্যরা।
তাদের অভিযোগ, যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে হয়তো এমন করুণ পরিণতি এড়ানো সম্ভব হতো।