
হারানো ফোন খুঁজতে গিয়ে স্বামী-স্ত্রীর কাছে মিলল ৪৭ চোরাই পণ্য
প্রতিবেদক, শেরপুর
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ২২:৫০

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় দাফন করার মতো নিজস্ব জমি না থাকায় আব্দুল করিম (৬০) নামে এক বৃদ্ধের মরদেহ বসতঘরেই দাফন করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) উপজেলার তাতিহাটী ইউনিয়নের শালমারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বৃদ্ধের করিম শালমারা গ্রমের মৃত শমসের আলীর ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল করিমের বসতভিটা ছাড়া কোনো জায়গা জমি নেই। শালমারা এলাকায় পারিবারিক কবরস্থান ছাড়া কোনো গণকবরস্থান নেই। ফলে যাদের পারিবারিক কবরস্থান নেই তারা ব্যাপক বিড়ম্বনায় পড়েন। কেউ কেউ বাড়ির আঙিনায়, বসতবাড়ির সামনে, বসতঘরের পাশে মরদেহ দাফন করে থাকেন। আব্দুল করিমের বসতঘরের জায়গা ছাড়া আর কোনো জায়গা জমি না থাকায় বসতঘরেই তাকে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় এলাকা চাঞ্চল্য তৈরি হয়।
শালমারা গ্রামের মাসুদ মিয়া বলেন, ‘আমরা এলাকার জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজকে শালামারা গ্রামে একটি গণকবরস্থানের দাবি দীর্ঘদিন থেকে করে আসছি। কেউ এগিয়ে না আসায় আব্দুল করিমকে তার ঘরেই দাফন করা হয়েছে। বিষয়টি খুবই দুঃজনক ও লজ্জার।’
ওই বৃদ্ধের মেয়ে রিক্তা পারভীন বলেন, ‘আমাদের বসতঘর ছাড়া আর কোনো জমি নেই। তাই বাধ্য হয়ে আমার বাবাকে ঘরেই দাফন করেছি। তবে আর কোনো স্বজনকে বা এলাকার অন্য কাউকে যেন বসতঘরে দাফন করতে না হয়, এজন্য এলাকায় একটি গণকবরস্থান হওয়া দরকার।’
তাতীহাটী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুর রউফ বলেন, ‘শালামারা এলাকায় কোনো গণকবরস্থান নেই। বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। আগামীকাল (মঙ্গলবার) নিহত পরিবারের লোকজনদের সঙ্গে কথা বলে পাশেই ষাইটকাকড়া গণকবরস্থানে ওই বৃদ্ধের মরদেহ দাফন করা হবে।’
শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনীষা আহমেদ বলেন, ‘ওই ওয়ার্ডে কোনো সামাজিক কবরস্থান না থাকায় ঘরে দাফন করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা হয়েছে। আগামীকাল (মঙ্গলবার) সকালে আমরা ঘটনাস্থলে যাব। পরিবারটির সঙ্গে আলোচনা করে পাশের ওয়ার্ডের সামাজিক কবরস্থানে তাকে দাফন করার উদ্যোগ নেয়া হবে।’
জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘সমাজে একজন মানুষ মারা যাবে, তাকে সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হবে না- এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি জানার পরই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছি। আগামীকাল (মঙ্গলবার) বৃদ্ধের বাড়ির পাশে যে কবরস্থান রয়েছে, সেখানেই তাকে দাফন করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমি সত্যিই মর্মাহত। এ খবরটি জানার পর পরই শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্যকেও জনিয়েছি।’