
সৈকতে নিখোঁজ অপর পর্যটকের মরদেহও উদ্ধার, মৃতের সংখ্যা ৫
প্রতিবেদক, কুমিল্লা
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ২২:৪৭

দীর্ঘ সময়েও কোনো সমাধান না হওয়ায় মরদেহ দাফন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ছবি: সময় সংবাদ
মৃত্যুর পরও শান্তি মিলল না ৯৫ বছর বয়সী আব্দুর রবের। সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে বাবার জানাজা ও দাফনে বাধা দেন তারই সন্তানরা। এ নিয়ে দিনভর চলে বিরোধ ও মীমাংসার চেষ্টা।
শেষ পর্যন্ত স্থানীয় লোকজনের হস্তক্ষেপে মৃত্যুর প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় তার মরদেহ।
এমন ঘটনা ঘটেছে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার সরসপুর ইউনিয়নের শ্রীধরপুর গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১০ সন্তানের জনক আব্দুর রব ২০ অক্টোবর দিবাগত রাত ১টার দিকে নোয়াখালীর একটি হাসপাতালে মারা যান। পরদিন বুধবার সকালে তার জানাজার প্রস্তুতি নেয়া হলে বাধা দেন ছোট ছেলে সাইদুর রহমান ও ছয় মেয়ে। তাদের অভিযোগ, বাবার জীবদ্দশায় কৌশলে তার সহায়-সম্পত্তি লিখে নিয়েছেন মেজ ছেলে সালাউদ্দিন ও সেজ ছেলে আলাউদ্দিন। এ নিয়ে ভাই-বোনদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরেই বাবার জানাজা ও দাফন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে কয়েকজন সন্তান বাবার জানাজা ও দাফনে বাধা দেন। বিষয়টি সমাধানে সকাল থেকে স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা বৈঠক হয়। তবে দীর্ঘ সময়েও কোনো সমাধান না হওয়ায় মরদেহ দাফন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। দিনভর নানা নাটকীয়তার পর স্থানীয় লোকজন, নেতা ও পরিবারের সদস্যদের উদ্যোগে পরিস্থিতির সমাধান হয়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জানাজা শেষে আব্দুর রবকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
স্থানীয় সমাজপতি মো. সামছুল হক বলেন, পরিবারের সদস্য ও সমাজের কাউকে না জানিয়ে দুই ভাই আলাউদ্দিন ও সালাউদ্দিন তাদের বাবার কাছ থেকে সব সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রায় ছয় মাস আগে ছোট ছেলে সাইদুর রহমান বাড়িতে বিদ্যুতের মিটার নামানোর জন্য খতিয়ান ও দাগ নম্বরের প্রয়োজন হলে বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপর ভাই-বোনদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
তিনি আরও বলেন, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের মীমাংসায় স্থানীয়ভাবে কয়েকবার বসার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। তবে অভিযুক্ত দুই ভাই সেখানে উপস্থিত হননি।
মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদ আহমদ বলেন, বুধবার সকালে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে সরসপুর ইউনিয়নের শ্রীধরপুর গ্রামে মরদেহ দাফনে বাধা দেয়ার অভিযোগ জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে স্থানীয় সমাজপতি, নেতা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। সবার সম্মতিতে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জানাজা শেষে মরদেহ দাফন করা হয়।