
মেট্রোরেলে বাবা বসতে চেয়েও জায়গা পাননি, দাঁড়ানো থেকে পড়ে মারা গেলেন: এনসিপি নেতা নাকিবুর
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২:৫৫

পিরোজপুরে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার বাদী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মরদেহ দাফনে বাধা দেয়ার ঘটনায় দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জামায়াতে ইসলামী। কমিটি আগামী তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বিশেষ বৈঠকে এই কমিটি গঠন করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
কমিটির সদস্যরা হলেন- সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন ও সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল।
জামায়াত সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে পিরোজপুরে সংঘটিত সাম্প্রতিক ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। গঠিত কমিটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে ঘটনার তদন্ত করে এর সঙ্গে সংগঠনের কেউ জড়িত রয়েছেন কি না তা খতিয়ে দেখবে। এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটিকে সার্বিক সহায়তা করার জন্য স্থানীয় নেতাদের নির্দেশ দেয়া হয়। কমিটিকে আগামী তিনদের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
মানিক পশারী (৮৭) পিরোজপুর সদরের শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি গেজেটভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা। মানিক পশারী জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলার বাদী এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম সাক্ষী। ২০০৯ সালের ১২ আগস্ট মানিক পশারী পিরোজপুর থানায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন অপরাধের অভিযোগে একটি মামলা করেন। পরবর্তীতে এই অভিযোগটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মূল মামলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর বিরুদ্ধে বিচার চলাকালে মানিক পশারী রাষ্ট্রপক্ষের ৬ নম্বর সাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়ে সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন। তিনি নিজেকে ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে দাবি করেছিলেন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে মানিক পশারী পলাতক ছিলেন। পরে তিনি টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাতার কাছে চলে যান। দুই মাস ধরে তিনি শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। গত ২৪ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে মেয়ের বাড়িতেই মানিক পশারীর মৃত্যু হয়। দুপুর ১২টার দিকে তার পরিবারের সদস্যরা মরদেহ পিরোজপুরে নিয়ে যান। কিন্তু তার মরদেহ দাফনে বাধা দেয়ার অভিযোগ ওঠে স্থানীয় জামায়াতের বিরুদ্ধে।
তার স্বজনদের অভিযোগ, জামায়াত নেতাদের বাধার মুখে তাকে প্রকাশ্যে গার্ড অব অনার দেয়া সম্ভব হয়নি। পরে শনিবার বিকেল ৫টার দিকে পুলিশ লাইনসের ভেতরে গোপনে গার্ড অব অনার দিয়ে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে প্রশাসন। মরদেহ দাফনের জন্য প্রথমে খোঁড়া কবর একদল ব্যক্তি ভরাট করে ফেলে। পরে মানিক পশারীর মেয়ে তার ফুফুদের নিয়ে নতুন করে বাড়িতেই কবর খুঁড়ে মরদেহ দাফন করেন।