
খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের আইসিটি রুমে আগুন
প্রতিবেদক, কক্সবাজার
প্রকাশ: শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২০:১

অগ্নিকাণ্ডের পর রিসোর্টের অবস্থা। ছবি: সময় সংবাদ
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকায় টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১০ জনের মৃত্যুর ঘটনায় রিসোর্টটির ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সুমনকে থানায় রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
অগ্নিকাণ্ডের পর রিসোর্টটির মালিক তানভির আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে (এডিএম) প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান।
এর আগে শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন পাটুয়ারটেক এলাকার রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট সকাল ৮টার দিকে উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। ফায়ার সার্ভিসকে সহযোগিতা করেন বিজিবি, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা।
দুপুর ২টা পর্যন্ত ১০ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেন কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসেন। তিনি জানান, রিসোর্টের সব কক্ষ তল্লাশি করা সম্ভব হয়নি।
নিহতদের মধ্যে ছয়জন একই পরিবারের সদস্য ও নিকটাত্মীয় বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকার বনশ্রীর বাসিন্দা মো. আশিকুল ইসলামের স্ত্রী, শ্যালিকাসহ পরিবারের সদস্যরা।
পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বৃহস্পতিবার রিসোর্টটিতে বেড়াতে আসেন ঢাকার বনশ্রীর বাসিন্দা মো. আশিকুল ইসলাম। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ইসরাত জাহান মালিহা, শ্যালিকা লায়লা জাহান নাবিলাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা।
আশিকুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, আগুন লাগার আগে তাদের দুজন সৈকতে ঘুরতে বের হন। আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি রিসোর্টের দোতলা থেকে লাফ দিয়ে বাইরে বের হতে সক্ষম হন। এ ঘটনায় তার পরিবারের ছয়জন নিখোঁজ ছিলেন। পরে উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে তার স্ত্রী ও শ্যালিকাসহ ছয়জনকে পাওয়া যায়।
নিহতদের মধ্যে ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহজাবিন আলভী (২৩), লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), ফারিহা কবির (৩৩), ফায়িজান আহম্মেদ (৫) ও আশুলিয়ার নাসরিন আক্তার মুক্তা (২৮)-এর পরিচয় পাওয়া গেছে বলে সর্বশেষ দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে আলভী ও নাফিস তেহামি জেরিফ মালিহা ও নাবিলার কাজিন; ফারিহা কবির জেরিফের বড় বোন এবং ফায়িজান তাদের ভাগ্নে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
অগ্নিকাণ্ডে আহত ছয়জনকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তার স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, ফায়ার সার্ভিসের নেতৃত্বে উদ্ধারকারী দল ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। আহত ছয়জনকে হাসপাতালে নেয়া হলে তাদের মধ্যে চারজনকে ভর্তি করা হয় এবং দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়। আগুন লাগার কারণ তখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রিসোর্টের ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স ছিল না
অগ্নিকাণ্ডের পর রিসোর্টটির প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জানান, টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টের ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স ছিল না। এ বিষয়ে আগে সতর্ক করা হলেও কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় বৈধতা নেয়নি বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির ওই কর্তৃপক্ষের অনুমোদনও ছিল না।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বোয়ালখালী এলাকার তানভির আহমেদ নামের এক ব্যক্তি রিসোর্টটির মালিক। সেখানে স্থানীয়দের প্রবেশাধিকার সীমিত ছিল বলেও দাবি তাদের। প্রতিষ্ঠানটির আড়ালে মাদক বিক্রি ও গভীর রাত পর্যন্ত বিতর্কিত কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা জানা সম্ভব হয়নি।