
মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনের পরও আতঙ্ক কাটেনি পরিবারে

স্বামী নাভিদ হোসেনের সঙ্গে নিহত বর্ষা। ফাইল ছবি
মৃত্যুর কয়েক মিনিট আগে বাবাকে ভিডিওকল করেছিলেন গৃহবধূ বর্ষা। কাঁদতে কাঁদতে জানাচ্ছিলেন, স্বামী নাভিদ হোসেন তাকে মারধর করছে। নির্যাতন থেকে বাঁচতে বাবার কাছে সাহায্য চান তিনি। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই কলটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর পরিবারের কাছে খবর আসে বর্ষা আর বেঁচে নেই।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর তেজগাঁও থানার মনিপুরি পাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য বর্ষাকে চাপ দিচ্ছিলেন তার স্বামী নাভিদ। গতকালও যৌতুকের দাবিতে তাকে মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে গলা চেপে হত্যা করা হয় বর্ষাকে।
পুলিশ জানায়, নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিন বোনের মধ্যে বর্ষা ছিলেন মেজো। প্রায় এক বছর আগে ভালোবেসে নাভিদকে বিয়ে করেন। স্বজনদের দাবি, বিয়ের পর থেকেই বদলে যেতে থাকে পরিস্থিতি। নাভিদের কোনো স্থায়ী পেশা ছিল না। এক পর্যায়ে মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এরপর থেকেই মাদক আর গাড়ি কেনার টাকার জন্য বর্ষার পরিবারের কাছে অর্থ দাবি করতে থাকেন।
বর্ষার বাবা তেজগাঁও থানায় ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন। যে মেয়েকে মাত্র এক বছর আগে বিয়ে দিয়েছেন, তার এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না তিনি। বর্ষার মৃত্যুর ঘটনায় তেজগাঁও থানায় হত্যা মামলা করেছে পরিবার।
ডিএমপি তেজগাঁও বিভাগের উপ- কমিশনার ইবনে মিজান জানান, বর্ষার স্বামী নাভিদ হোসেনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।