
ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির কাগজ নবায়নে বিআরটিএর নতুন নির্দেশনা
সাবরিনা মজুমদার
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৩৫
প্রতীকী ছবি
মাদ্রাসায় বলাৎকার ও যৌন নিপীড়নের ঘটনার পরিসংখ্যান উদ্বেগজনক। মানবাধিকার সংস্থা জেএমবিএফের তথ্য বলছে, চলতি বছর মাদ্রাসায় যৌন নির্যাতনের শিকার ১০৯ শিশু। মামলা হলেও বেশরিভাগ ঘটনায় বিচার অধরাই থেকে যাচ্ছে।
শিক্ষার জন্য সন্তানকে পাঠানো হয় মাদ্রাসায়। অভিভাবকের প্রত্যাশা, সেখানে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নিরাপদে বেড়ে উঠবে শিশু। কিন্তু সেখানেই যদি যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়, তাহলে নিরাপদ শৈশবের নিশ্চয়তা কোথায়? ছেলে শিশু ধর্ষণের ঘটনা সামনে এলেও অপরাধীদের বিচার কতটা হচ্ছে? প্রতিরোধেই বা কতটা কার্যকর ব্যবস্থা রয়েছে? একের পর এক অনৈতিক কর্মকাণ্ডে সামনে আসছে এসব প্রশ্ন।
চলতি বছরের মে মাসে রাজধানীর বনশ্রীতে মাদ্রাসার ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় ১০ বছরের মাদ্রাসাশিক্ষার্থী আবদুল্লাহর মরদেহ। যৌন নির্যাতন ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন তার মা। এ ঘটনায় গ্রেফতার হন একই মাদ্রাসার এক জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী। কিন্তু প্রায় সাত মাস পেরুলেও অগ্রগতি নেই বিচার কাজের।
মানবাধিকার সংস্থা জেএমবিএফের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ৯ মাসে সারা দেশে ছেলে শিশুদের ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার ১৩১টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। ভুক্তভোগী ১৭১ শিশু। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার ১৬১ জন, আর ধর্ষণচেষ্টার শিকার ১০ জন। সংস্থাটির তথ্য বলছে, এর মধ্যে মাদ্রাসায় ৭২টি ঘটনায় যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১০৯ শিশু।
অবশ্য কিছু ক্ষেত্রে ছেলে শিশু ধর্ষণের দায়ে সাজা হওয়ার নজিরও রয়েছে। তবে ছেলে শিশু নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়ার পর শিশুর শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং পরীক্ষার ফলাফল কিভাবে নথিভুক্ত করা হবে, সেই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা নেই বলে জানান অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান।
এই আইনজীবী বলেন, মেডিকেল টেস্ট ও ডিএনএ টেস্টসহ অন্যান্য বিষয় আছে। ছেলে শিশুদের ক্ষেত্রে সেই কার্যক্রমগুলো কীভাবে পরিচালিত হবে, সেই বিষয়ে আলাদা করে কোনো সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা এখনও পর্যন্ত দেখতে পাই না। এখানে প্রমাণ সংগ্রহের ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে।
শুধু কঠোর শাস্তির বিধান নয়, প্রয়োজন নির্যাতন প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষা, অভিযোগ জানানোর নিরাপদ ব্যবস্থা এবং কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।
এ বিষয়ে মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম বলেন, গুড টাচ, বেড টাচ সম্পর্কে সচেতনতা শুরু করতে হবে। মানুষকে সচেতন করতে হবে, শিক্ষকদেরকে সচেতন করতে হবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা যেতে পারে, যেখানে শিশুরা কোনো ভয় না পেয়ে তাদের কথাগুলো বলবে।
ছেলে শিশুদের ক্ষেত্রে নির্যাতনের ঘটনা অনেক সময়ই থেকে যায় আড়ালে। ফলে নির্যাতনের শিকার শিশুর জন্য চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা এবং আইনি প্রতিকার নিশ্চিত করাও হয়ে পড়ে কঠিন।