
ঢামেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিত

রাতের আঁধারে নিজ বাড়িতে মানিক পশারীর মরদেহ দাফন করা হয়। ছবি: সংগৃহীত
পিরোজপুরে মানিক পশারীর মরদেহ দাফনের পর ভয়-আতঙ্কে দিন পার করছেন পরিবারের সদস্যরা। থমথমে পরিস্থিতেতে মুখ খুলছেন না কেউ। অন্যদিকে মরদেহ দাফনে বাধা দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে জেলা জামায়াত। করা হয়েছে তদন্ত কমিটি।
মানিক পশারীর মৃত্যুর পর কেটে গেছে বেশ কয়েক দিন। অথচ পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে এখনো কাটেনি আতঙ্কের রেশ। মৃত্যুর শোক ছাপিয়ে, এলাকাজুড়ে ডালপালা মেলেছে নানা প্রশ্ন। কী এমন ঘটেছিলো, যার পরিণতিতে মানিক পশারীর মরদেহ দাফন করতে স্বজনদের পড়তে হলো বাধার মুখে? কেন তার শেষ বিদায়ের সময় পাশে ছিলেন না স্বজনরা? একটি মৃত্যু ঘিরে এমন পরিস্থিতি কি নিছক মরদেহ দাফনে বাধা? নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে আরও অন্য কোনো কারণ।
এখনো ভয় আর আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয়রা। আত্মগোপনে রয়েছেন মানিক পশারীর স্বজনরা।
ভয় আর আতঙ্কে ঘরে ফিরতে পারছেন না স্ত্রী-সন্তানরা। তাদের অভিযোগ, অনুরোধ জানানোর পরও খুঁড়ে রাখা কবর ভরাট করে ফেলেন জামায়াতের উত্তেজিত নেতাকর্মীরা। দেয়া হয় এলাকাছাড়া করার পাশাপাশি মামলার হুমকি।
তবে মরদেহ দাফনে বাধা দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে জেলা জামায়াত। মানিক পশারী মুক্তিযোদ্ধা কি না, তা নিয়ে বিতর্ক থাকায়, গার্ড অব অনার দেয়ার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে জানান দলটির জেলা সেক্রেটারি জহিরুল হক।
এ ঘটনায় দলীয় নেতাকর্মীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
উল্লেখ্য, গত ১৭ অক্টোবর দুপুরে গোপালগঞ্জে মারা যান প্রয়াত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম সাক্ষী মানিক পশারী। পরে সেখান থেকে গার্ড অব অনার দেয়ার জন্য মরদেহ পিরোজপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে আনা হলে, বাধা দেয় বিক্ষুব্ধ জামায়াতের নেতাকর্মীরা।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি বিবেচনায় কড়া নিরাপত্তায় পুলিশ লাইনের ভেতরে গোপনীয়তার সঙ্গে দেয়া হয় গার্ড অব অনার। তার বোন ও মেয়ে কবর খোড়ার পর রাত দেড়টার দিকে, নিজ বাড়িতে দাফন করা হয় মানিক পশারীর মরদেহ।