
রোনালদোর অবসরের ঘোষণায় মরিনিয়োর প্রতিক্রিয়া: ‘এখনও অনেক লক্ষ্য বাকি’
খেলা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২১:৪০

দারুণ সেঞ্চুরিতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানকে জয় এনে দিয়েছেন হামজা জহুর। ছবি: আইসিসি
হামজা জহুরের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ভর করে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে ৩ উইকেটে হারিয়েছে পাকিস্তান। রোববার (৮ নভেম্বর) ওমানের আল আমেরাত ক্রিকেট গ্রাউন্ডের (মিনিস্ট্রি টার্ফ ১) মাঠে এসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ ২০২৬-এর লো স্কোরিং ম্যাচে এই জয় তুলে নেয় গ্রিন শার্টরা।
২০৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৪৯তম ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় পাকিস্তান। একপর্যায়ে ৬৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছিল গ্রিন শার্টরা। সেখান থেকে হামজা জহুর ও হাসনাইন আব্বাস দারের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তান।
পাকিস্তানের ইনিংসের শুরুটা ভালো হয়নি। তৃতীয় ওভারে ইশান সুদের বলে ৪ বলে ৫ রান করে বিদায় নেন জাহাঙ্গীর বিলাল। আগের ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করা উসমান খানও এদিন ব্যর্থ হন। মোহিত উলভার বলে আউট হওয়ার আগে ২৩ বলে ১৬ রান করেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল দুটি চার।
এরপর মানাল চৌহানের শিকার হয়ে ফেরেন আবদুল কাদির। ২৭ বলে ২০ রান করেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল দুটি চার ও একটি ছক্কা। ফলে ১২.৩ ওভারে ৫৫ রানেই ৩ উইকেট হারায় পাকিস্তান।
এরপর ভারতের বোলাররা আরও চেপে ধরেন পাকিস্তানকে। কাব্য পারেশ প্যাটেলের বলে মাত্র ২ রান করে আউট হন অধিনায়ক ফারহান ইউসুফ। পরে চৌহান ফিরিয়ে দেন আহমেদ হুসাইনকে। ২৭ বলে ৮ রান করে বিদায় নেন তিনি। এতে ৬৫ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে পাকিস্তান।
এমন পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরেন হামজা ও হাসনাইন আব্বাস দার। দুজন মিলে ষষ্ঠ উইকেটে গড়েন ১০৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। তাদের দৃঢ় ব্যাটিংয়ে ম্যাচে ফিরে আসে পাকিস্তান। চাপের মধ্যেও দারুণ সংযম দেখিয়ে দলকে ১৫০ রানের গণ্ডি পার করান তারা।
এই জুটির মধ্যেই যুব ওয়ানডেতে নিজের প্রথম অর্ধশতক তুলে নেন হামজা। অন্য প্রান্তে দারও দারুণ সহযোগিতা করেন তাকে।
৩৮তম ওভারে আবারও আঘাত হানেন চৌহান। ৬৭ বলে ৩৮ রান করা হাসনাইন আব্বাস দারকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল দুটি চার। পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ১৬৮ রান।
এরপর মোহিত উলভার শিকার হয়ে ১৩ বলে ৪ রান করে ফেরেন মোহাম্মদ সাইয়াম। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে দলকে জয়ের দিকে এগিয়ে নেন হামজা।
শেষ পর্যন্ত ১০৮ বলে ১০ চার ও ৩ ছক্কায় অপরাজিত ১০০ রান করে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। তার অসাধারণ ইনিংসে ভর করে ভারতের বিপক্ষে স্মরণীয় জয় পায় পাকিস্তান।
এর আগে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে ভারত। ইনিংসের প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই পাকিস্তানি পেসার আলী রাজার শিকার হন অধিনায়ক লক্ষ্ম্য রাইচান্দানি। কোনো রান না করেই ফেরেন তিনি।
শুরুর ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই আরও দুই উইকেট হারায় ভারত। আলী রাজা ফিরিয়ে দেন ভিকে বিনীতকে। ২৯ বলে ৮ রান করেন তিনি। অন্যদিকে ১১ বলে ১ রান করা যশবর্ধন চৌহানকে ফেরান রিজওয়ানউল্লাহ। ফলে ১১.৪ ওভারে ২২ রানেই ৩ উইকেট হারায় ভারত।
এরপর ৩০ বলে ২২ রান করা আর্যবীর শেবাগকে ফেরান নিকাব শফিক। তার ইনিংসে ছিল একটি করে চার ও ছক্কা।
পঞ্চম উইকেটে অরুণ রাজপুত ও অন্বয় দ্রাবিড়ের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে ভারত। তাদের ব্যাটিংয়ে ৫০ রানের গণ্ডি পেরোয় দলটি। তবে ১৬ বলে ১০ রান করা দ্রাবিড়কে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন নিকাব।
৭০ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর দলের হাল ধরেন অরুণ। মানাল চৌহানকে সঙ্গে নিয়ে গড়েন ৬৪ রানের জুটি। এই জুটিতে অরুণ ছিলেন বেশি আক্রমণাত্মক, আর তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন চৌহান। দুজনের ব্যাটিংয়ে ১৫০ রানের গণ্ডি পেরোয় ভারত।
এরপর যুব ওয়ানডেতে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন অরুণ রাজপুত। তবে রিজওয়ানউল্লাহর বলে ১৯ বলে ১১ রান করা চৌহান আউট হলে ভাঙে তাদের জুটি।
এরপর সেট হয়ে যাওয়া অরুণকেও ফিরিয়ে দেন রিজওয়ানউল্লাহ। ৮৫ বলে ১১ চার ও ৫ ছক্কায় ১০৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ফেরেন অরুণ। তার বিদায়ে ৩৫.২ ওভারে ১৭০ রানে ৭ উইকেটে পরিণত হয় ভারত।
এরপর আলী রাজা নিজের তৃতীয় উইকেট হিসেবে ফেরান ১৪ বলে ৪ রান করা যশবীর গৌড়কে। নিকাব শফিকও পূর্ণ করেন নিজের তিন উইকেট। তার শিকার হন ১২ বলে ৭ রান করা মোহিত উলভা।
শেষদিকে কাব্য পারেশ প্যাটেলকে ৪৫ বলে ২৩ রানে ফিরিয়ে ভারতের ইনিংস গুটিয়ে দেন মোহাম্মদ সাইয়াম। তার ইনিংসে ছিল একটি চার।
পাকিস্তানের হয়ে আলী রাজা, রিজওয়ানউল্লাহ ও নিকাব শফিক প্রত্যেকেই ৩টি করে উইকেট নেন। বাকি একটি উইকেট পান মোহাম্মদ সাইয়াম।