
প্রবাসীদের বেতন দিতে দেরি নয়, নিয়োগকর্তাদের কঠোর বার্তা কুয়েতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ২৩:৫২

স্পেন-বাংলাদেশ এক্সপো ২০২৬-এ প্রদর্শিত জুতা দেখছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘তৃতীয় বাংলাদেশ-স্পেন এক্সপো ২০২৬’। স্পেনের সেভিল শহরে সোমবার (২৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ ও স্পেনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং রফতানি পণ্য বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে আয়োজিত এই প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, আন্দালুসিয়ান সরকারের মন্ত্রী, স্প্যানিশ সিনেটরবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং দুই দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ ও স্পেনের প্রায় ৪০টি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। প্রদর্শনীতে দুই দেশের তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ (এগ্রো-প্রসেসিং), পাট ও পাটজাত পণ্য, রাসায়নিক সামগ্রী এবং গৃহস্থালি পণ্যসহ বিভিন্ন খাতের বৈচিত্র্যময় পণ্যসামগ্রী প্রদর্শন করা হয়।
এছাড়া ব্যবসায়ীদের জন্য আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা প্রদানের বিষয়টিও মেলায় বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়।
উদ্বোধনী বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা এবং নেটওয়ার্কিং ও বাণিজ্যিক যোগাযোগের সুযোগ তৈরির জন্য 'স্পেন-বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি'র ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতকে আজকের এই গতিশীল অবস্থানে নিয়ে আসার পেছনে সাবেক রাষ্ট্রপতি শহিদ জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য এক অনুকূল পরিবেশ তৈরির চলমান প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বিশেষ করে ফার্মাসিউটিক্যালস (ওষুধ শিল্প), তথ্য প্রযুক্তি (আইটি), নবায়নযোগ্য শক্তি, চামড়া ও পাদুকা শিল্প এবং উন্নত উৎপাদন খাতের মতো উদীয়মান ক্ষেত্রগুলোতে বিনিয়োগের জন্য স্প্যানিশ উদ্যোক্তাদের আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের সোনালী আঁশ পাটের বৈশ্বিক চাহিদার কথা উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, আধুনিক ফ্যাশন, ডিজাইন এবং পরিবেশবান্ধব পণ্যের বাজারে পাটের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।
এছাড়া ফ্যাশন ও সাংস্কৃতিক শিল্পের সমন্বয়ে গঠিত 'ক্রিয়েটিভ ইকোনমি' বা সৃজনশীল অর্থনীতি কীভাবে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উদ্ভাবনে ভূমিকা রাখছে তা বিশদভাবে তুলে ধরেন তিনি।
একদিনের এই এক্সপো দুই দেশের ব্যবসায়ী মহলের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে বলে মনে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে স্পেনের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ, টেকসই উৎপাদন এবং উদ্ভাবনী খাতে যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে উভয় দেশই সমানভাবে লাভবান হবে।