
কুয়েতে বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের ৭৮তম ইঞ্জিনিয়ার্স ডে উদযাপন
মঈন উদ্দিন সরকার সুমন
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:৩১

কুয়েতের উপপ্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ ফাহাদ আল-ইউসুফ আল-সাবাহ। ছবি: সংগৃহীত
কুয়েতে জীবনযাত্রার ব্যয় ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়েনি প্রবাসী শ্রমিকদের বেতন। এমন পরিস্থিতিতে প্রবাসী কর্মীদের প্রতি সহমর্মিতা দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ ফাহাদ আল-ইউসুফ আল-সাবাহ। একই সঙ্গে জাতীয়তা নির্বিশেষে সব কর্মীর বেতন যথাসময়ে পরিশোধ করতে নিয়োগকর্তাদের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়েছেন তিনি।
রোববার (২৫ অক্টোবর) কুয়েতের ইংরেজি দৈনিক আরব টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে আলোচনার সময় মন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, কুয়েতি কর্মীদের বেতন নিশ্চিত করা হলেও বিদেশি কর্মীদের বেতন দিতে দেরি করা কীভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে?
তার মতে, কোনো কর্মীর জাতীয়তার ভিত্তিতে বেতন পরিশোধে বৈষম্য করা উচিত নয়। প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করা প্রত্যেক কর্মীরই ন্যায্য পাওনা যথাসময়ে পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
শেখ ফাহাদ আল-ইউসুফ বলেন, খাদ্যপণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়েছে, বেড়েছে জীবনযাত্রার ব্যয়ও। কিন্তু অনেক প্রবাসী কর্মীর বেতন সেই অনুপাতে বাড়েনি। এ অবস্থায় তারা কীভাবে নিজেদের ও পরিবারের ব্যয় নির্বাহ করবেন—এমন প্রশ্ন তুলে নিয়োগকর্তাদের মানবিক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বেতন বকেয়া থাকাকে শ্রমিক অসন্তোষ ও কর্মবিরতির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের গত আড়াই বছরে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করেছেন। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদন পর্যালোচনার পাশাপাশি সরাসরি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করে বেতন পরিশোধের অবস্থা জানার চেষ্টা করেছেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, শ্রমিকদের বেতন পরিশোধে অবহেলা, মানবপাচার ও অর্থপাচারের মতো কর্মকাণ্ড কুয়েতের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ক্ষতি করতে পারে। তাই শ্রম আইন ও বিধিবিধান যথাযথভাবে প্রয়োগের পাশাপাশি নিয়োগকর্তাদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি।
মন্ত্রী আরও বলেন, বেতন না পেয়ে শ্রমিকেরা যেন প্রতিবাদে রাস্তায় নামতে বাধ্য না হন, সে জন্য আগেভাগেই সমস্যার সমাধান করতে হবে। কর্মীদের পাওনা পরিশোধ এবং তাদের সঙ্গে ন্যায্য আচরণ করা নিয়োগকর্তাদের আইনগত ও মানবিক দায়িত্ব।
কুয়েতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসী কর্মী বেসরকারি খাতে কাজ করছেন। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির মধ্যে বেতন নিয়মিত পরিশোধ ও শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় মন্ত্রীর এ বক্তব্য প্রবাসী কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।