
ফ্রান্সে বিক্ষোভের মাঝেই আকস্মিক সৌদি সফরে ম্যাক্রোঁ
মঈন উদ্দিন সরকার সুমন
প্রকাশ: বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ২০:২৫

কুয়েতে ভর্তুকি মূল্যের ডিজেল অবৈধভাবে বিদেশে পাচার ও বিক্রির ঘটনায় এক কুয়েতি পৌর কর্মকর্তা এবং এক ভারতীয় নাগরিককে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির ফৌজদারি আদালত। একই মামলায় অভিযুক্ত আরও চার ভারতীয় নাগরিককে এক মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) স্থানীয় গণমাধ্যম 'আরব টাইমস'-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
তবে এ মামলায় আনীত অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় এক কাস্টমস কর্মকর্তা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন সার্জেন্ট এবং এক মিসরীয় বিপণন ব্যবস্থাপককে খালাস দিয়েছেন আদালত।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে কুয়েতের সরকারের ভর্তুকি মূল্যের ডিজেল অবৈধভাবে সংগ্রহ করে বিদেশে পাচার ও বিক্রির একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে তোলে। এ উদ্দেশ্যে তারা শুল্কসংক্রান্ত নথি জালিয়াতি এবং ভুল তথ্য দিয়ে পণ্য রপ্তানির অপচেষ্টা চালায়।
এর আগে কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের যৌথ অভিযানে জ্বালানি পাচারের এই সংঘবদ্ধ চক্রটির সন্ধান মেলে। রপ্তানির জন্য প্রস্তুত করা ১০টি কনটেইনারের কাগজপত্রে 'লোহা' (আইরন) হিসেবে উল্লেখ করা হলেও তল্লাশিতে সেগুলোর ভেতর বিপুল পরিমাণ পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য জব্দ করা হয়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, দুটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া শুল্কঘোষণাপত্র ব্যবহার করে এসব জ্বালানি বিদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যানুযায়ী, কুয়েতের কাবদ এলাকার একটি গোপন আস্তানায় জ্বালানি সংগ্রহ, মজুত ও কনটেইনারে ভরার কাজ চলত। সেখান থেকেই জাল শুল্কসংক্রান্ত নথির মাধ্যমে বিদেশে পাচারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হতো। অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থল থেকেই তিন ভারতীয় নাগরিককে হাতেনাতে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
তদন্তে আরও উঠে আসে, চক্রটি প্রায় আট মাস ধরে সক্রিয় ছিল এবং এ সময় মাসে গড়ে দুটি করে জ্বালানির চালান বিদেশে পাচার করত। মামলায় কয়েকজনের বিরুদ্ধে জাল শুল্কঘোষণাপত্র তৈরি, কনটেইনারে ডিজেল ভরা এবং পাচারে প্রত্যক্ষ সহায়তার অভিযোগ প্রমাণিত হয়। একই সঙ্গে একজন সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে শুল্কঘোষণাপত্র ও পণ্য খালাসের অনুমতিপত্র সহ বিভিন্ন সরকারি নথি জাল করার অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত দুই প্রধান আসামিকে ৭ বছর এবং অন্য চার ভারতীয়কে ১ মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেন। কুয়েতে ভর্তুকি মূল্যের জ্বালানি অবৈধভাবে পাচার ও বাণিজ্যিক ব্যবহার রোধে কর্তৃপক্ষের কঠোর অবস্থানের মধ্যেই এই গুরুত্বপূর্ণ রায় এলো।