
আখতারুজ্জামানের ছেলের ওপর হামলায় রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা ব্যক্তিরা জড়িত: জামায়াত আমির
ms
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ৯:১২

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত
আওয়ামী লীগ শাসনামলের ১৫ বছরে বিরোধী মতের রাজনীতি দমন ছিল শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত আক্রোশ ও জেদের বহিঃপ্রকাশ। বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক অস্তিত্ব মুছে দিতে রীতিমতো দমন-পীড়ন চালিয়েছিল দেড় দশকের ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার। দলগুলোর ওপর নিপীড়নের ঘটনাকে এভাবেই ব্যাখ্যা করেছেন বিএনপি ও জামায়াতের নেতারা। বিশ্লেষকদের মতে, সরকারবিরোধী মত দমন এবং পুরো সমাজব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে নিতে শেখ হাসিনার শাসনামলে পদ্ধতিগতভাবে নিপীড়ন চালানো হয়েছে।
২০১৮ সালে তৎকালীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানোর ঘটনা আওয়ামী লীগ শাসনামলে বিরোধী দলের ওপর নিপীড়নের অন্যতম উদাহরণ। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত শেখ হাসিনার শাসনামলে বিরোধী রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে ওয়ার্ড পর্যায়ের কর্মী-সমর্থকরাও নির্যাতন, নিপীড়ন, হত্যা, গুম, হামলা-মামলা, গ্রেফতার ও কারাবন্দির শিকার হয়েছেন।
বিভিন্ন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে প্রায় ৭০০ মানুষকে গুম করা হয়েছে, যাদের মধ্যে চার শতাধিক বিএনপির নেতাকর্মী। শুধু ২০১৩ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন বিএনপির দেড় হাজারের বেশি নেতাকর্মী। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বিএনপির ৬০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এমনকি একজন নেতার নামেই মামলার সংখ্যা চার শতাধিক।
বিএনপি নেতাদের মতে, ব্যক্তিগত আক্রোশ ও জেদের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এসব কর্মকাণ্ড দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘হাসিনা ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থাকে এমনভাবে ধ্বংস করে দিয়ে গেছেন যে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মুখ দেখাদেখিও প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এর মূলে ছিল শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত কিছু আক্রোশ, জেদ ও কথাবার্তা। এসবই রাজনীতিকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে। ফ্যাসিস্টদের মুখে এখনো শোনা যায়-ধরব, মারব, কাটব, আসছি, দেখিয়ে দেব, এই করব, ওই করব। এগুলো তো রাজনীতির ভাষা নয়।’
ফ্যাসিবাদী শাসনামলে নিপীড়নের শিকার জামায়াতে ইসলামীর মুখপাত্রের মতে, ক্রসফায়ারে হত্যা, গুম, হামলা ও মামলার মাধ্যমে দেড় দশক ধরে বিরোধী দলগুলোর ওপর দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মুখপাত্র এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী আমলে কয়েক হাজার মানুষকে ক্রসফায়ারে ফেলা হয়েছে, গুম করা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন অনেকে। এখানে সব দলের নেতাকর্মীরা ছিলেন। এমন কোনো বিরোধী দল নেই, যাদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন ও ক্র্যাকডাউন হয়নি। ধারাবাহিকভাবে এসব হয়েছে। বিরোধী দলশূন্য করার জন্য যা করার, তিনি (শেখ হাসিনা) সব করেছেন।’
বিশ্লেষকদের মতে, পুরো সমাজকে নিয়ন্ত্রণে নিতে শেখ হাসিনার শাসনামলে পদ্ধতিগত নিপীড়ন চালানো হয়েছে। এতে ব্যাহত হয়েছে স্বাভাবিক রাজনৈতিক চর্চা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতন্ত্র চর্চা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম বলেন, ‘শেখ হাসিনার শাসনামলে পদ্ধতিগত নিপীড়নের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছিল, যাতে কোনো জায়গা থেকেই কেউ কোনো বক্তব্য দেয়ার সুযোগ না পান। পুরো সমাজকে নিয়ন্ত্রণে নেয়ার জন্য কাদের বিরুদ্ধে মামলা দিতে হবে, কাদের গুম করতে হবে, কাদের হত্যা করতে হবে-এসব নির্ধারণ করা হতো। রাজনীতির একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া চলমান রাখতে হয়। কিন্তু ১৭ বছরে আমরা দেখেছি, সেই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া চলমান ছিল না। বিরোধী দলের কোনো স্পেস ছিল না, বিরোধী বক্তব্যেরও কোনো সুযোগ ছিল না। সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিসর খুবই সংকুচিত হয়ে গিয়েছিল।’
তবে ২০২৪ সালের আগস্টে নিপীড়নের বিরুদ্ধে সম্মিলিত রাজনৈতিক বিজয়ের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের বিদায় হয়েছে-এমন ঐক্য ধরে রাখার বিষয়ে বিশ্লেষকদের পরামর্শের সঙ্গে একমত রাজনীতিবিদরাও।