
ইসরাইলে নির্বাচন: ৭০ শতাংশ ভোট গণনা শেষেও নেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:৫০

চিকিৎসকরা বলছেন, আফগানিস্তানে বিস্ফোরণ ও দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনার জন্য কর্নিয়া প্রতিস্থাপন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ছবি: সংগৃহীত
‘ইসলামি শিক্ষার পরিপন্থি’ আখ্যা দিয়ে কর্নিয়া প্রতিস্থাপন নিষিদ্ধ করেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। এতে প্রতিবছর শত শত মানুষ দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগান কর্মকর্তারা বলেছেন, কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের পদ্ধতি ইসলামি শিক্ষায় অনুমোদিত নয়। একই সঙ্গে তারা চোখের অপারেশন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন।
২০২১ সালে ক্ষমতা দখলের পর থেকে আফগানিস্তানে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ সীমিত করে একের পর এক নির্দেশনা জারি করেছে তালেবান। কর্নিয়া প্রতিস্থাপন বন্ধের নির্দেশ তারই ধারাবাহিকতার সর্বশেষ ঘটনা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজধানী কাবুল ও পূর্বাঞ্চলীয় শহর জালালাবাদে স্থানীয় চিকিৎসকদের কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের প্রশিক্ষণ দেয়ার কয়েক মাস পরই এই নিষেধাজ্ঞা এলো। চিকিৎসকদের মতে, বিস্ফোরণ ও দুর্ঘটনায় চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানো রোগীদের দৃষ্টি ফিরিয়ে আনতে আফগানিস্তানে কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের ব্যাপক প্রয়োজন রয়েছে।
কাবুলের নূর আই হাসপাতালের চিকিৎসক নূর জামান হাশিম জানান, তালেবানের নির্দেশ আসার আগে সাম্প্রতিক কয়েক মাসে তাদের হাসপাতালে ৯০টি কর্নিয়া প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল।
কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন অপেক্ষমাণ রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তাদের অধিকাংশই তরুণ, যারা আঘাত, বিস্ফোরণ, দুর্ঘটনা কিংবা ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করতে গিয়ে চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন।
চিকিৎসক হাশিম বলেন, কয়েক দশকের সহিংসতায় আফগানিস্তানের স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী কর্নিয়া প্রতিস্থাপন করার মতো পর্যাপ্ত চক্ষুবিশেষজ্ঞ ও স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত কর্নিয়াও নেই। তার ভাষ্য, তালেবান মৌখিকভাবে অস্ত্রোপচার বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। কঠোর শাস্তির আশঙ্কায় কেউ সেই নির্দেশ অমান্য করার সাহস পাচ্ছেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ভিত্তিক দাতব্য সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন অব ফিজিশিয়ানস অব পাকিস্তানি ডিসেন্ট অব নর্থ আমেরিকা (এপিপিএনএ) ২০১৭ সাল থেকে পাকিস্তানে বিনা মূল্যে কর্নিয়া সরবরাহ করে আসছে। অঙ্গদানের মাধ্যমে এসব কর্নিয়া সংগ্রহ করা হয়।
চলতি বছরের শুরুর দিকে সংস্থাটি তাদের কর্মসূচি আফগানিস্তানেও সম্প্রসারণ করে। এর আওতায় দেশটিতে ১৫০টির বেশি কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার করা হয়। এ জন্য পাকিস্তানের পেশোয়ারে তিনজন আফগান চক্ষুচিকিৎসককে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছিল।
এপিপিএনএর কর্নিয়া কর্মসূচির প্রধান এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জাফফার মীর ফাউন্ডেশনের প্রধান ফাওয়াদ জাফফার বলেন, ২০১৭ সাল থেকে পাকিস্তানে বিনা মূল্যে কর্নিয়া পাঠানোর মাধ্যমে ১০ হাজার মানুষ উপকৃত হয়েছেন।
প্রায় চার মাস আগে আফগানিস্তানে কর্মসূচিটি সম্প্রসারণ করা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও তালেবানের নির্দেশনায় পুরো কর্মসূচি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার কারণে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এমন রোগীদের একজন কাবুলের আখেরের রস বিক্রেতা সালামত খান। ২০২৩ সালে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারান। বিনা মূল্যে চিকিৎসা পাওয়ার কর্মসূচি সম্পর্কে এক উপকারভোগীর কাছ থেকে জানার পর তিনি হাসপাতালে যোগাযোগ করেন।
সালামত খান জানান, চিকিৎসকেরা তাকে সেপ্টেম্বরে অস্ত্রোপচারের কথা বলেছিলেন। কিন্তু আগস্টেই কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি বিস্মিত হন।
একই পরিস্থিতির শিকার জালালাবাদের ৪০ বছর বয়সী খাদিজা বেগম। বিস্ফোরণে চোখে আঘাত পাওয়ার পর দুই মাস আগে তিনি জালালাবাদ আই হাসপাতালে নিবন্ধন করেছিলেন। খাদিজা জানান, গত মাসে তালেবান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কর্মসূচি বন্ধের নির্দেশ দেয়। তাদের দাবি ছিল, কর্নিয়া প্রতিস্থাপন ইসলামী শিক্ষার পরিপন্থী।
এপিপিএনএ এক বিবৃতিতে তালেবানের প্রতি আফগানিস্তানে কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, কয়েক দশকের সহিংসতায় বিপর্যস্ত আফগানিস্তানে এ ধরনের চিকিৎসাসেবার তীব্র প্রয়োজন রয়েছে।