
৩৮ বছর পর টেক্সাসে রিপাবলিকানদের ‘দুর্গ’ ভাঙলেন ডেমোক্র্যাট টালারিকো
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৯:২১

বিস্ফোরণের মুহূর্তে করণীয় থেকে শুরু করে তেজস্ক্রিয়তা থেকে সুরক্ষা এবং নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান; সবকিছুই তুলে ধরা হচ্ছে এসব নির্দেশনায়। ছবি: ভিডিও থেকে নেয়া
পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা থেকে নাগরিকদের সুরক্ষায় জরুরি নির্দেশনা প্রচার করছে ইরানের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল। সম্ভাব্য পারমাণবিক বিস্ফোরণ থেকে প্রাণ বাঁচাতে দেয়া হচ্ছে পাঁচ দফা সতর্কবার্তা। বিস্ফোরণের মুহূর্তে করণীয় থেকে শুরু করে তেজস্ক্রিয়তা থেকে সুরক্ষা এবং নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান; সবকিছুই তুলে ধরা হচ্ছে এসব নির্দেশনায়।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) হঠাৎ করেই ইরানের টিভি চ্যানেলগুলোতে প্রচার শুরু হয় পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা থেকে সতর্কতামূলক বার্তা। সম্ভাব্য পারমাণবিক হামলা থেকে বাঁচতে প্রথমেই বিস্ফোরণের দিকে সরাসরি তাকানো থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। হামলা হলে তাৎক্ষণিকভাবে শক্ত কোনো কাঠামোর ভেতরে আশ্রয় নিতে হবে। এরপর নিচের দিকে মুখ করে শুয়ে থাকতে হবে, যতক্ষণ না বিস্ফোরণের অভিঘাত অতিক্রম করে।
বিস্ফোরণের তরঙ্গ থেমে গেলে দ্রুতই নিকটস্থ কোনো ভবনে প্রবেশ করার কথা বলা হয়। এ সময় জানালা ও বাইরের দেয়াল থেকে দূরে থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিস্ফোরণের পর বাইরে অবস্থান করা কিংবা ছবি তোলা সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলার পরামর্শও দেয়া হয়। এমনকি গাড়িকেও আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার না করার সতর্কতা রয়েছে।
তৃতীয় নির্দেশনায় গুরুত্ব দেয়া হয়েছে তেজস্ক্রিয় কণা থেকে শরীরকে সুরক্ষিত রাখার বিষয়ে। শরীরে তেজস্ক্রিয় পদার্থ লেগে গেলে কুসুম গরম পানি ও সাবান দিয়ে তা ধুয়ে ফেলতে হবে। ব্যবহার করতে হবে কন্ডিশনারবিহীন সাধারণ শ্যাম্পু। গোসলের সুযোগ না থাকলে মুখ, হাত এবং শরীরের উন্মুক্ত অংশগুলো পানি দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।
এ ছাড়া পারমাণবিক বিস্ফোরণের পর অন্তত ২৪ ঘণ্টা নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থানের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ সময় খাবার ও পানীয় গ্রহণেও সতর্ক থাকতে বলা হয়। শুধুমাত্র বোতলজাত পানি এবং প্যাকেটজাত খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সবশেষে, আশ্রয়স্থল থেকে বের হওয়ার ক্ষেত্রে নিজে থেকে কোনো সিদ্ধান্ত না নেয়ার নির্দেশনা রয়েছে। ২৪ ঘণ্টা পার হলেও পরিস্থিতি নিরাপদ এমন ধারণা করা যাবে না। বাইরে যাওয়ার আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। তবে আশ্রয় নেয়া ভবনে আগুন লাগার বা ধসে পড়ার আশঙ্কা থাকলে দ্রুত অন্য নিরাপদ ভবনে সরে যেতে হবে।
সম্ভাব্য পারমাণবিক হামলার ভয়াবহতা মোকাবিলায় এসব নির্দেশনা প্রচার করছে ইরানের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো। নাগরিকদের তাৎক্ষণিক সুরক্ষা এবং তেজস্ক্রিয়তার ঝুঁকি কমাতেই এই সতর্কবার্তা বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।
এদিকে মঙ্গলবার ভোরে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপ ও দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর বন্দর লেঙ্গেহতে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে পাঁচটি বিস্ফোরণ ঘটেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের একটি আকাশযান লক্ষ্য করে ইরানের সারফেস-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এ হামলা চালানো হয়।
হরমুজের পূর্বদিকে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিতের দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী-আইআরজিসি। কেশম দ্বীপের দক্ষিণে আরও দুটি মার্কিন নজরদারি ড্রোন নামানোর দাবিও করেছে তারা। তেহরানে ফের হামলা হলে সামরিক সংঘাতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে প্রস্তুত থাকার হুঁশিয়ারি দিয়েছেনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
তিনি বলেন, ‘আমরা উভয় পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুত। যদি তারা আরেকবার আমাদের পরীক্ষা করে, তবে নিজেরাই আগের চেয়েও খারাপ জবাব পাবে। আর যদি তারা সততার সাথে কূটনীতিতে প্রবেশ করতে প্রস্তুত থাকে, তাহলে আমরাও প্রস্তুত।’
তবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পরোক্ষ আলোচনায় অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন-তেহরানের আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে হামলার সম্ভবনার কথা নাকচ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। পাশাপাশি যেকোন সময় তেহরানের সঙ্গে চুক্তির কথাও জানান তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ‘তাদের কোনো টাকা নেই এবং তাদের যা আছে তা হলো গত ১৫ বছরে যেকোনো দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, যা ৩০০ শতাংশেরও বেশি। এবং তারা একটি চুক্তি করতে চায়, এবং তা হতেও পারে।’
ওয়াশিংটন-তেহরান সংঘাতের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে। কাতার, তুরস্ক, জর্ডান ও মিসরের শীর্ষ কূটনীতিকেরা উত্তেজনা কমাতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। চীনও সামরিক সংঘাতের বদলে রাজনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।