
মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারলে আমি ‘মিস্টার ভেটো’ হয়ে যাবো: ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কেশম দ্বীপে সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে পরপর পাঁচটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী সীমিত আকারে হামলা চালিয়েছে। দ্বীপের একটি অংশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার খবর প্রকাশের এক ঘণ্টা পর, মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী সীমিত আকারের হামলায় কেশম দ্বীপের কয়েকটি এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল লিখেছে, মার্কিন কর্মকর্তারা ঘোষণা করেছেন যে সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কেশম দ্বীপকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ওয়াশিংটন গোপনে ইরানের বিরুদ্ধে যে ধারাবাহিক সীমিত হামলা চালিয়েছে, এটি তারই সর্বশেষ ঘটনা। একই সময়ে সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনার কথাও বলেছেন।
ফক্স নিউজ জানিয়েছে, কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, ইরান একটি মার্কিন বিমানকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর পর যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত কেশম দ্বীপকে লক্ষ্যবস্তু করে।
একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা ফক্স নিউজকে বলেন, এই হামলা ছিল “প্রতিরক্ষামূলক”। তিনি আরও বলেন, এই পদক্ষেপকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা পুনরায় শুরু হওয়া বা উত্তেজনা বৃদ্ধির সূচনা হিসেবে দেখা উচিত নয়।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রকাশনা অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদক বারাক রাভিদ বলেন, একজন মার্কিন কর্মকর্তা তাকে জানিয়েছেন যে সোমবার রাতে “বিপ্লবী গার্ড বাহিনী কেশম দ্বীপ থেকে হরমুজ প্রণালিতে থাকা একটি মার্কিন বিমানের দিকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে মার্কিন যুদ্ধবিমানটি ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ধ্বংস করে।”
একই সময়ে, বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দাবি করেছে যে তারা ইরানের এই দ্বীপের আকাশে দুটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
সাধারণত এক্স প্ল্যাটফর্মে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু ও শেষ হওয়ার ঘোষণা দিয়ে থাকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের সদর দফতর সেন্টকম। তবে এ প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত তারা এসব খবরের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
কেশম দ্বীপ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের একটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূখণ্ড। পারস্য উপসাগরের প্রবেশমুখের কাছে এবং গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথের পাশে অবস্থিত হওয়ায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনায় দ্বীপটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
আট মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও নতুন করে সামরিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। তেহরান ও ওয়াশিংটন মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে।
এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে কাতার। আলোচনায় থাকা একটি প্রস্তাবিত কাঠামোয় হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয় রয়েছে বলে জানা গেছে।
চলমান সংঘাতে এর আগেও কেশম দ্বীপে সামরিক তৎপরতার খবর পাওয়া গেছে। গত ৩০ অক্টোবর ইরানি সংবাদমাধ্যম জানায়, দ্বীপটির কাছে একটি ড্রোন প্রতিহত করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
একই সময়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আশপাশের এলাকায় বিস্ফোরণ ও সম্ভাব্য আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার তৎপরতার খবর প্রকাশ করে। তবে ওই সপ্তাহে পৃথক একটি ঘটনায় ড্রোনের নিয়ন্ত্রণ হারানোর বিষয়ে ইরানের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছিল মার্কিন সামরিক বাহিনী।
এদিকে ইরানে নতুন করে মার্কিন সামরিক হামলার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আরও এক দফা হামলার বিষয়টি বিবেচনা করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আহ্বান জানিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।