
প্রধানমন্ত্রীর সফরে মেগা প্রকল্প নিয়ে স্বপ্ন বুনছেন দক্ষিণাঞ্চলবাসী
জহিরুল হক বাবু, কুমিল্লা
প্রকাশ: বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৩৪

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট থেকে লাকসামে যাওয়ার পথে কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিনসহ তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়। ছবি: সময় সংবাদ
কুমিল্লার লাকসামে রেললাইনের মেরামতকাজ চললেও কোনো সতর্কবার্তা কিংবা নির্দেশনা পাননি ঢাকামুখী কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেনের চালক। নাঙ্গলকোট রেলস্টেশনের মাস্টারও বিষয়টি জানতেন না বলে দাবি করেন। ফলে চালককে লাকসামের দিকে অগ্রসর হওয়ার লাইন ক্লিয়ারেন্স দেন। এর ফলে বিচ্ছিন্ন লাইনে গিয়ে ট্রেনের ইঞ্জিনসহ তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এ ঘটনায় কারো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে লাকসামের নাওটি রেলস্টেশনের আউটারে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর ঢাকামুখী রেললাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। লাইনচ্যুত ইঞ্জিন ও বগি উদ্ধারে চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন পাঠানো হচ্ছে।
ট্রেনটির লোকোমাস্টার মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘নাঙ্গলকোট স্টেশন থেকে লাইন ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পর আমি লাকসামের দিকে যাত্রা শুরু করি। পথে রেললাইনে মেরামতকাজ চলার বিষয়ে আমাকে কোনো কশন অর্ডার, গতিসীমা-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ কিংবা সতর্কবার্তা দেয়া হয়নি। লাইনে কাজ হচ্ছে বা কাজ চলছে—দেখেশুনে যাবেন, এ ধরনের কোনো নির্দেশনা কোনো মাস্টার দেননি, স্টেশন মাস্টারও বলেননি, এমনকি গার্ডও বলেননি।’
দুর্ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘ট্রেনটি স্বাভাবিক গতিতে চালিয়ে আসছিলাম। হঠাৎ প্রায় ১০০ মিটার দূরে লাল পতাকা দেখতে পাই। তখন হুইসেল বাজিয়ে ট্রেন থামানোর চেষ্টা করি। কিন্তু ট্রেন থামতে থামতে সামনে গিয়ে দেখি, রেললাইন বিচ্ছিন্ন এবং সেখানে মেরামতকাজ চলছে। দুর্ঘটনার সময় ট্রেনটির গতি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার ছিল।’
কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেনটিকে লাইন ক্লিয়ারেন্স পেপার দেয়া নাঙ্গলকোট স্টেশন মাস্টার জামাল হোসেনও রেললাইনে মেরামতকাজের বিষয়ে কোনো তথ্য না পাওয়ার দাবি করেছেন।
তিনি বলেন, ‘রেলপথের মেরামতকাজ করা হবে, এমন কোনো বার্তা আমাদের কাছে আসেনি। এমনকি কন্ট্রোল রুম থেকেও আমরা এ ধরনের কোনো তথ্য পাইনি। যে কারণে কর্ণফুলী কমিউটারকে লাইন ক্লিয়ারেন্স দিয়েছি। পরে শুনলাম, নাওটি রেলস্টেশনের আউটারে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়েছে।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে লাকসাম জংশনের স্টেশন মাস্টার ওমর ফারুকের মোবাইলফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি সাড়া দেননি।
এদিকে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা ফারহান মাহমুদকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রেলের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রকৌশল বিভাগের ফেনী অঞ্চলের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী জয়দেব শীল বলেন, ‘তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পেছনে দুটি বিষয় থাকতে পারে, সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় ট্রাফিক ও প্রকৌশল—দুই বিভাগেরই দায় থাকতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘একদিকে লাল পতাকা দেখানোর পরও চালক ট্রেন থামাতে পারেননি। অন্যদিকে আগের দিন থেকে রেললাইনে মেরামতকাজ চললেও এ বিষয়ে দাফতরিকভাবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা নির্দেশনা পাঠানো হয়নি।’
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ কী এবং রেলের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর দায়িত্বে কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন।