
রাজধানীতে ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের ৪ নেতা গ্রেফতার
আলী আকবর টুটুল, বাগেরহাট
প্রকাশ: বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৪৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি
সরকার গঠনের মাত্র ৮ মাসের মাথায় মোংলা বন্দর সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো কোনো প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ঘিরে নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল ও এলএনজি টার্মিনালের মেগা প্রকল্প নিয়ে নতুন স্বপ্ন বুনছেন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং অসম্পূর্ণ জেটি নির্মাণ ও ড্রেজিংসহ থমকে থাকা প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ হবে।
গুরুত্বপূর্ণ এই সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মোংলা বন্দর জেটি, সুন্দরবনের আকরাম পয়েন্ট এলাকায় প্রস্তাবিত এলএনজি টার্মিনাল ও প্রস্তাবিত নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চলের নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করবেন। এসব মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এই এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফেরার পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জ্বল হোসেন স্বাক্ষরিত সফরসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধানমন্ত্রী নিজ বাসভবন থেকে সড়কপথে তেজগাঁও বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করে সকাল ১০টায় হিরণ পয়েন্ট ও সুন্দরবন এলাকা পর্যবেক্ষণ করবেন। এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করে লঞ্চযোগে বাগেরহাটের বানৌজা মোংলার উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি।
দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে বানৌজা মোংলার জেটিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে তার। দুপুর ১টায় মধ্যাহ্নবিরতির পর দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে ওয়ার্ডরুমের সভাকক্ষে আয়োজিত সভায় যোগ দেবেন তিনি। এরপর দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে মোংলা বন্দরের জেটি পরিদর্শনের উদ্দেশে রওনা হবেন। বিকেল ৩টায় জেটি এবং সাড়ে ৩টায় প্রস্তাবিত বেজা অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সফর শেষে বিকেল ৪টায় হেলিকপ্টারে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পিজিআর সদস্য, এসআরবি, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও পুলিশ মোতায়েন করে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ীরা ইতিবাচক স্বপ্ন দেখছেন। মোংলা বন্দর বার্থ ও শিপ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জুলফিকার আলী বলেন, ‘প্রস্তাবিত নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল ও এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের মধ্য দিয়ে এই এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ হবে। এতে করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’
বাগেরহাট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি শেখ সাহেদ আলী রবি বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ কমাতে হলে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এ জন্য চ্যানেলের নাব্যতা বৃদ্ধিতে ড্রেজিংয়ের পাশাপাশি কাস্টমস হাউজ ও শুল্ক বিভাগের আধুনিকায়ন জরুরি।’ প্রধানমন্ত্রীর আগমন এসব উদ্যোগকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলে মনে করেন তিনি।
রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিকারকদের সংগঠন বারবিডার সভাপতি আবদুল হক বলেন, ‘রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি করেই মোংলা বন্দরে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আয় হয়। তবে আমদানির ক্ষেত্রে বারবিডা বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।’ প্রধানমন্ত্রীর এই সফর বৈষম্য নিরসনে ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সফরে এ অঞ্চলে বিনিয়োগে আরও গতি আসবে। পাশাপাশি উপকূলীয় জনপদে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কাজ হারানো বিপুলসংখ্যক মানুষের বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরি হবে। সব মিলিয়ে এলাকার অর্থনীতি, অবকাঠামো ও মানুষের জীবনযাত্রার আমূল পরিবর্তন হবে।’