
জমি নেই, একমাত্র সম্বল বসতঘরেই বৃদ্ধকে দাফন!
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:৪

রাজধানী মগবাজারের পেয়ারাবাগ অংশে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং এর নিচ দিয়ে চার লেনের রেলপথ নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত। ফলে এসব উন্নয়নকাজে আর আইনি বাধা থাকলো না।
এ বিষয়ে শুনানি শেষে বুধবার (১৪ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবকাশকালীন চেম্বার বিচারপতি মোহাম্মদ রেজাউল হকের আদালত সরকারের পক্ষে এ আদেশ দেন। তবে জমির মালিকানার সপক্ষে দাবিকৃত ক্ষতিপূরণ বা ‘অ্যাওয়ার্ড মানি’ পাওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ও কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদালত নির্দেশনা দেন।
শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে অংশ নেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুফ রউফ, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ওসমান চৌধুরী। অপরপক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মো. নুরুল আমিন।
আদেশে বলা হয়েছে, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং এর নিচ দিয়ে চার লেনের রেললাইন নির্মাণে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনায় কোনো আইনি বাধা নেই।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মগবাজারের পেয়ারাবাগ অংশের জমির মালিকানা নিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং এ এম মোস্তাফিজুর রহমানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দাবি ও পাল্টা দাবি চলছিল। মূলত এর জেরেই বিগত সাত বছর যাবত ওই অংশের উন্নয়ন কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল।
মোস্তাফিজুর রহমানের দাবি ছিল, ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে ২০১৯ সালে তিনি মামলা করেন এবং সে বছর ২৯শে মে তার পক্ষে রায় আসে। তখন ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠিত না থাকায় সরকার প্রাথমিকভাবে সুপ্রিম কোর্টে গেলেও আদেশ পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠিত হলে সরকারের পক্ষ থেকে আপিল করা হয় এবং ২০২৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর রেলওয়ের পক্ষে রায় ঘোষণা করা হয়। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে এ এম মোস্তাফিজুর রহমান হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন করলে গত ২৮ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট বিভাগ স্থিতাবস্থা জারি করেন। ফলে কাজ আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।
হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ, রেলওয়ে মন্ত্রণালয়, ডিসি ও সেটেলমেন্ট অফিসারের পক্ষ থেকে আপিল বিভাগে সিভিল মিসলেনিয়াস পিটিশন করা হয়।