
জমি নেই, একমাত্র সম্বল বসতঘরেই বৃদ্ধকে দাফন!
প্রতিবেদক, ফরিদপুর
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ২২:২

ফরিদপুরে বাস পোড়ানো মামলায় গ্রেফতারের পর অসুস্থ আওয়ামী লীগ নেতা শহিদুল ইসলামকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে। ছবি: সময় সংবাদ
ফরিদপুরে একটি বাস পোড়ানো মামলার সন্দেহজনক আসামি হিসেবে গ্রেফতারের পর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম ওরফে মজনু। পরে আদালতে সোপর্দ না করেই পুলিশ হেফাজতে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে তার অসুস্থতাকে রহস্যজনক হিসেবে সন্দেহ করছে পুলিশ।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে শহরের রাজবাড়ী রাস্তার মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
শহিদুল ইসলাম ওরফে মজনু জেলা সদরের ঈশানগোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে রয়েছেন। তবে রাজবাড়ী রাস্তার মোড়সংলগ্ন উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় অংশগ্রহণের সময় তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়। পরে থানায় নেয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নেয়া হয়। এরপর বিকেল ৪টার দিকে ঢাকা মেডিকেলে তাকে পাঠানো হয়।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর সদরের করিমপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির কাছে দুর্ঘটনাকবলিত পূর্বাশা পরিবহনের একটি বাস ওই পুলিশ ফাঁড়িতে মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা অবস্থায় ছিল। গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে ওই বাসটিতে আগুন লাগে। এ ঘটনায় ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলার সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেফতার করা হয় শহিদুলকে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে বাসে অগ্নিসংযোগ, গাড়ি ভাঙচুর, নাশকতা ও সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে মোট ১৪টি মামলা রয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান জানান, শহিদুল দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। সর্বশেষ একটি বাস পোড়ানোর মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
তবে থানায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় শহিদুল আকস্মিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে আদালতে সোপর্দ করার বদলে তাৎক্ষণিকভাবে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে বিকেলে পুলিশ পাহারায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।
ওসি বলেন, তবে শহিদুলের হঠাৎ এ অসুস্থ হয়ে পড়ার বিষয়টি আমাদের কাছে রহস্যজনক বলে মনে হয়েছে।