
শুঁটকি মৌসুমের শুরুতেই বৈরি আবহাওয়ার কবলে দুবলার চরের জেলেরা

হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ডেঙ্গু রোগীরা। ছবি: সময় সংবাদ
অক্টোবরেই ডেঙ্গুতে চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ মৃত্যু ও সংক্রমণ দেখেছে দেশ। এডিস মশাবাহিত এ রোগে চলতি মাসে মারা গেছেন চার শতাধিক মানুষ। আক্রান্ত হয়েছেন এক লাখ ৩০ হাজারের বেশি। যা চলতি বছরের মোট মৃত্যু ও সংক্রমণের প্রায় অর্ধেক। নভেম্বরেও পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও হটস্পট ব্যবস্থাপনা জোরদারের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিয়েছে ডেঙ্গু। প্রতিদিন গড়ে দেড় হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হওয়ায় বাড়ছে উদ্বেগ। চলতি মৌসুমের ১০ মাসেই আক্রান্ত ও মৃত্যুর হিসাবে গত দুই যুগের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে ২০২৬ সাল। এর আগে তিন বছর আগে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ মৃত্যু ও সংক্রমণ দেখেছিল দেশ।
অক্টোবরের প্রথম ভাগে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা ছিল। সেই প্রবণতা মাসের শেষ ভাগ পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। এরইমধ্যে এক দিনে সর্বোচ্চ ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর ২৯ দিনে মারা গেছেন মোট ৪১৫ জন। আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে এক লাখ ৩০ হাজার। চলতি মৌসুমে মোট মৃত্যু ও সংক্রমণের প্রায় অর্ধেকই হয়েছে অক্টোবরে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছর আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ।
কীটতত্ত্ববিদদের আশঙ্কা, নভেম্বরেও পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা নেই। দেশে এডিস মশার ঘনত্বের ইনডেক্স ২০-এর বেশি, যা ডেঙ্গু বিস্তারের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, হটস্পট ব্যবস্থাপনা এবং এসব কার্যক্রমে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করা গেলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, নভেম্বরেও খুব দ্রুত ডেঙ্গু পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। যেসব এলাকায় ডেঙ্গু রোগীর হটস্পট বা ক্লাস্টার রয়েছে, সেগুলোকে কেন্দ্র করে সমন্বিত ভেক্টর ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এরপরও কেন পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ হয়ে উঠল-এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, পূর্বাভাস অনুযায়ীই ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। আগের তুলনায় ডেঙ্গুর চিকিৎসাসেবারও উন্নতি হয়েছে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেন, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও মশার লার্ভা ধ্বংসের কাজ চলছে। এ কার্যক্রমে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একসঙ্গে কাজ করছে। পাশাপাশি, ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য দুই মাস আগেই বিস্তারিত পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশের দুই হাজার চিকিৎসককে ডেঙ্গু বিষয়ে রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এর ফলে বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় আগের তুলনায় আরও ভালোভাবে ডেঙ্গুর চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হচ্ছে। এ ছাড়া মশা নিধনে নতুন কিছু প্রযুক্তি এসেছে। জাপানের একটি প্রতিষ্ঠান এ নিয়ে কাজ করছে। দেশীয় কয়েকজন প্রযুক্তিবিদও তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করছেন। এসব প্রযুক্তি কাজে লাগানো গেলে মশার সংখ্যা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তিপর্যায়ে সচেতনতার ওপরও গুরুত্ব দেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।