উৎপাদনে বাড়তি খরচ, সংকটে লবণ শিল্প
মুরসালিন হক জুনায়েদ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৩৮

জাতীয় সংবিধান। ছবি : সংগৃহীত
বর্তমান সংবিধানে সংস্কার পরিষদ গঠনের বিধান নেই। তাই বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ীই হতে হবে সংশোধন। এমন মন্তব্য করে সংবিধানবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবীরা বলছেন, সংশোধন ইস্যুতে সরকার আর বিরোধী দলের মধ্যে রাজনৈতিকভাবে জয়ী হওয়ার মানসিকতা কাঙ্ক্ষিত দীর্ঘমেয়াদি ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। দলগুলোর অনৈক্যে সামনে বিপদের শঙ্কা তাঁদের। আইনি কাঠামোর মধ্যে যে সংশোধনী আসবে সেখানে মূলনীতিতে হস্তক্ষেপ না করার পরামর্শও বিশ্লেষকদের।
জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে নির্বাচনের পর শুরু হয় সরকার আর বিরোধী দলের মতানৈক্য। সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি গঠন করে নির্দিষ্ট অংশীদারিত্ব রাখা হলেও সেখানে যোগদান থেকে বিরত থাকে বিরোধীদলীয় জোট।
সংশোধন এবং সংস্কার, এই দুই শব্দের পার্থক্যে সরকার আর বিরোধী দলের বিতর্ক যখন তুঙ্গে, তখন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংস্কার পরিষদ গঠনের বিধান না থাকায় বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ীই হতে হবে সংশোধন। সংবিধানের মূলনীতিতে পরিবর্তন এনে ভবিষ্যৎ বিতর্কের সুযোগ তৈরি না করার পরামর্শ বিশ্লেষকদের। তাঁরা বলছেন, সংবিধান সংশোধনের বিশেষ কমিটিতে অংশ না নেওয়া বিরোধীপক্ষের একধরনের কৌশল। তবে অনৈক্য থেকে গেলে ভবিষ্যতে বিপদের শঙ্কা তাঁদের।
সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কে এম মহিউদ্দিন বলেন, ‘সংবিধান সংশোধন করতে হলে বর্তমান সংবিধানের অধীনে করতে হবে। যদি সংবিধানের মূলনীতি পরিবর্তন করা হয়, সে ক্ষেত্রে প্রচণ্ড বিরোধিতা হওয়ার সম্ভাবনা আছে। নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করা, নির্বাহী বিভাগের প্রভাব কমানো এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা, সংবিধান সংস্কারে এই বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত হলো এখানে মূল খেলোয়াড়। উভয়েই চাচ্ছে রাজনৈতিক খেলায় জয়ী হতে। এটি করতে গিয়ে সংবিধান সংস্কারের যে প্রক্রিয়া সেটি হয়তো সঠিক হবে, কিন্তু সংবিধান সংস্কারের ফলাফলটা দীর্ঘমেয়াদি হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে।’
সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কাজী জাহেদ ইকবাল বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী সংস্কার পরিষদ গঠনের কোনো সুযোগ নেই। চব্বিশের ৫ আগস্টের পরের যেসব কার্যকলাপ সেগুলোকে বৈধতা দেওয়া এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে বৃহত্তর সাংবিধানিক যে পরিবর্তন দরকার তার সবকিছু ১৮ নম্বর সংশোধনীতে থাকতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক পক্ষগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধানের ভালো সংশোধনী হওয়া উচিত। তা না হলে ভবিষ্যতের জন্য একটা জটিলতা থেকে যাবে।’
জনগণের সম্মতির বাইরে সংবিধানের অন্য কোনো পরিবর্তনে রাজনৈতিক দলগুলোর মনোযোগ দেওয়া ঠিক হবে না বলেও মত বিশেষজ্ঞদের।