
স্কুল ফিডিংয়ের খাবারে শতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ, নিম্নমানের প্রমাণেও নেই কোনো ব্যবস্থা
বুলবুল রেজা
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫২

অপরাধে জড়ানো প্রতি তিন শিশুর একজনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ। আছে ধর্ষণ, অপহরণ, চুরি, মাদক সেবনের মতো অপরাধ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন শিশুদের শুধু শাস্তির আওতায় আনলেই হবে না, পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধেও নিতে হবে আইনি ব্যবস্থা। প্রয়োজন সংশোধন ও পুনর্বাসনও। এ জন্য বিদ্যমান আইন পরিবর্তনের তাগিদ আইনজীবীর।
কুমিল্লায় স্কুলছাত্র অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেফতার চারজনের মধ্যে দুজনের বয়স ১৫ ও ১৬ বছর। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় আদালত তাদের কারাগারের পরিবর্তে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠান। অপরাধ যেমনই হোক বয়স আঠারোর নিচে হলেই শিশু বিবেচনায় উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশনা দিয়ে থাকেন আদালত।
দেশের আট বিভাগের ১৬০টি থানার মামলা পর্যালোচনা করে একটি গবেষণা প্রকাশ করেছে পুলিশ স্টাফ কলেজ। থানা ও তিনটি সরকারি শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে ৪০৪ জন শিশু ও ১৫৬ জন অভিভাবকের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।
গবেষণার তথ্য বলছে, অপরাধে জড়ানো প্রতি তিন শিশুর একজনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। এ হার ৩২ দশমিক ৯২ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ ধর্ষণ, ধর্ষণে সহায়তা মামলার আসামি। ১৫ দশমিক ৮৪ শতাংশের বিরুদ্ধে চুরি, ১০ দশমিক ৯৭ শতাংশের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবহার, ১০ দশমিক ৪৫ শতাংশের বিরুদ্ধে অপহরণ এবং ৯ দশমিক ৬১ শতাংশের বিরুদ্ধে উত্ত্যক্তের অভিযোগ রয়েছে। অন্যান্য অপরাধের মামলা ৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ শিশুর বিরুদ্ধে।
গবেষণায় বন্ধুদের চাপ, কিশোর গ্যাং সম্পৃক্ততা, মাদকের সংস্পর্শ ও অভিভাবকের দুর্বল নজরদারিকে শিশুদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে দারিদ্র্য, পারিবারিক অস্থিতিশীলতা, সামাজিক নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার ঘাটতিও কাজ করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন শিশুদের শুধু শাস্তির আওতায় আনলেই হবে না, শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে পৃষ্ঠপোষকদেরও। কিশোর কারাগার তৈরির পরামর্শ তাঁদের।
সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, ‘আমরা বারবার বলছি, বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে বর্তমানে কিশোর কারাগার প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে কিশোরের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অপরাধের অভিযোগ আছে, তাকে ওই কারাগারে থাকতে হবে, সংশোধন কেন্দ্রে নয়।’
সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. সালমা আক্তার বলেন, ‘খুব নিরীহ শিশুর আড়ালেও একজন ভায়োলেন্ট ক্রিমিনাল তৈরি হচ্ছে। কারণ দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ায় সে একটা “রং অ্যাসোসিয়েশনে” চলে যাচ্ছে। পরিবার-সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, তারা কিন্তু জানতেই পারছে না।’
আইনজীবী বলছেন, প্রয়োজনে বিদ্যমান আইন পরিবর্তন করতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ওমর ফারুক বলেন, ‘আইনের বিধান মোতাবেক হুকুমদাতা, অস্ত্র-টাকা সরবরাহকারী বড়দের শাস্তি না দিয়ে অর্থাৎ গডফাদারদের আইনের আওতায় না আনলে এগুলো বন্ধ হবে না। ফলে তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। এ জন্য আইনের পরিবর্তন খুবই দরকার।’
কিশোর অপরাধ মোকাবিলায় মামলা, গ্রেফতারের পাশাপাশি সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণ চিহ্নিত করে সমাধানের পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।