
যে ৭ ভুলে আপনার রক্তে শর্করা বাড়ছে
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৫

প্রতিবছর ১৫ অক্টোবর পালিত হয় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস। ছবি: সংগৃহীত
প্রতিদিনের ছোট্ট একটি অভ্যাস বাঁচাতে পারে নানা রোগের ঝুঁকি থেকে। আর সেই অভ্যাসটি হলো সঠিক নিয়মে সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়া। জীবাণুর সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে প্রতিবছর ১৫ অক্টোবর পালিত হয় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস।
হাত দিয়ে আমরা প্রতিদিন অসংখ্য জিনিস স্পর্শ করি। দরজার হাতল, মোবাইল ফোন, টাকা, গণপরিবহনের আসন কিংবা বিভিন্ন ব্যবহার্য সামগ্রী থেকে হাতে জীবাণু জমতে পারে। অপরিষ্কার হাত দিয়ে খাবার খেলে বা চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করলে এসব জীবাণু শরীরে প্রবেশের সুযোগ পায়। ফলে ডায়রিয়া, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণসহ বিভিন্ন অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
কেন হাত ধোয়া জরুরি?
হাত ধোয়া শুধু পরিচ্ছন্নতার বিষয় নয়, এটি রোগ প্রতিরোধেরও গুরুত্বপূর্ণ উপায়। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম এমন মানুষের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুলে হাতে থাকা ময়লা, জীবাণু ও দূষিত পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে। এতে খাবার ও পানির মাধ্যমে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও কমানো সম্ভব।
কখন হাত ধোবেন?
দৈনন্দিন জীবনে কয়েকটি সময়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা বিশেষভাবে জরুরি।
খাবার তৈরি করার আগে এবং খাবার খাওয়ার আগে।
টয়লেট ব্যবহারের পর।
শিশুর ডায়াপার পরিবর্তন বা টয়লেট ব্যবহারে সাহায্য করার পর।
কাশি, হাঁচি বা নাক পরিষ্কার করার পর।
বাইরে থেকে বাড়িতে ফেরার পর এবং ময়লা-আবর্জনা স্পর্শ করার পর।
অসুস্থ ব্যক্তির যত্ন নেওয়ার আগে ও পরে।
পশুপাখি স্পর্শ করার পর।
সঠিক নিয়মে হাত ধোয়ার ৫টি ধাপ
১. হাত ভেজান: পরিষ্কার প্রবাহিত পানি দিয়ে দুই হাত ভিজিয়ে নিন।
২. সাবান ব্যবহার করুন: দুই হাতের তালুতে পর্যাপ্ত সাবান লাগান।
৩. ভালোভাবে ঘষুন: হাতের তালু, হাতের পিঠ, আঙুলের ফাঁক, নখের চারপাশ ও বুড়ো আঙুল ভালোভাবে ঘষুন।
৪. কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সময় নিন: তাড়াহুড়া না করে হাতের প্রতিটি অংশ পরিষ্কার করুন।
৫. পানি দিয়ে ধুয়ে শুকিয়ে নিন: পরিষ্কার প্রবাহিত পানি দিয়ে সাবান ধুয়ে ফেলুন এবং পরিষ্কার তোয়ালে বা উপযুক্ত উপায়ে হাত শুকিয়ে নিন।
শিশুদের শেখান হাত ধোয়ার অভ্যাস
শিশুদের ছোটবেলা থেকেই হাত ধোয়ার অভ্যাস শেখানো জরুরি। শুধু মুখে উপদেশ না দিয়ে পরিবারের বড়রা নিজেরাও নিয়মিত হাত ধুয়ে তাদের সামনে উদাহরণ তৈরি করতে পারেন। স্কুল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও জনসমাগমস্থলে হাত ধোয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।
পানি না থাকলে বা হাত দৃশ্যত নোংরা না হলে এবং সাবান-পানি ব্যবহারের সুযোগ না থাকলে অন্তত ৬০ শতাংশ অ্যালকোহলযুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে হাত দৃশ্যত নোংরা হলে সাবান ও পানিই উত্তম।
তথ্যসূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও ইউনিসেফ (UNICEF)