
সিটির শিরোপা কেড়ে নেয়ার পক্ষে নন এনরিকে
খেলা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯:২৩

জাদু দেখিয়েই চলেছেন লামিন ইয়ামাল। ছবি: রয়টার্স
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আবারও প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দিয়েছে বার্সেলোনা। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) লামিনে ইয়ামালের দুর্দান্ত নৈপুণ্যের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি গালাতাসারাই। পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত প্রতিপক্ষের মাঠে ৪-১ গোলের বড় জয় তুলে নিয়েছে বার্সেলোনা।
আরএএমএস পার্কে ম্যাচের ২৮ মিনিটে আলেক্সি বাতরাকভের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিক গালাতাসারাই। এরপর বারিস আলপার ইলমাজের হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও ভিএআর পর্যালোচনার পর অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়।
কিন্তু প্রথমার্ধেই ঘুরে দাঁড়ায় হান্সি ফ্লিকের দল। জোয়াও ক্যানসেলোর গোলে সমতায় ফেরে বার্সেলোনা। বিরতির পর ইয়ামালের তৈরি করে দেওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন ফার্মিন লোপেজ ও অ্যান্থনি গর্ডন। এর ফলে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নেয় বার্সা।
এর আগে পেদ্রির উঁচু করে বাড়ানো বল থেকে দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন গর্ডন। কিন্তু উগুরজান চাকিরের বাধায় গোল করতে পারেননি তিনি। অন্যদিকে, ইয়ামালের ক্রস থেকে পাওয়া সহজ হেডের সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন দানি ওলমো। ম্যাচের শুরুর দিকে বার্সেলোনাই ছিল বেশি আক্রমণাত্মক।
তবে সেই সুযোগগুলো কাজে লাগাতে না পারার খেসারত দিতে হয় বার্সাকে। রাফায়েল লিয়াওয়ের কাটব্যাক থেকে বক্সের বাইরে বল পেয়ে ডান পায়ের জোরালো শটে গোল করেন বাতরাকভ। ক্যানসেলোর গায়ে লেগে বলের দিক সামান্য পরিবর্তন হওয়ায় বার্সার গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়ার পক্ষে তা ঠেকানো সম্ভব হয়নি।
এর ছয় মিনিট পরই ব্যবধান বাড়ানোর উদ্যাপনে মেতে ওঠে গালাতাসারাই। বাতরাকভের বাঁ দিক থেকে নেওয়া কর্নারে ভিক্টর ওসিমেনের ফ্লিক থেকে হেডে বল জালে পাঠান ইলমাজ। কিন্তু ভিএআরে পর্যালোচনার পর অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়ে যায়।
ম্যাচের বিরতির ঠিক আগে সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করে বার্সেলোনা। দাভিনসন সানচেজের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে ওলমো সেটি বাড়িয়ে দেন ক্যানসেলোকে। এরপর নিখুঁত শটে বলকে দূরের পোস্ট দিয়ে জালে পাঠিয়ে সমতা ফেরান পর্তুগিজ ডিফেন্ডার।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন গর্ডন। ইয়ামালের দুর্দান্ত পাস থেকে পাওয়া সুযোগটি অবিশ্বাস্যভাবে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন তিনি।
তবে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি বার্সেলোনাকে। ৫০ মিনিটে ইয়ামালের মাপা ক্রস থেকে নিচু হয়ে হেড করেন ফার্মিন লোপেজ। বলটি গোলরক্ষকের নাগালের বাইরে দিয়ে জালের ডানদিকের নিচের কোণে আশ্রয় নেয়। ২-১ গোলে এগিয়ে যায় বার্সা।
এর মাত্র তিন মিনিট পর আবারও জ্বলে ওঠেন ইয়ামাল। ডান প্রান্তে দুর্দান্ত ড্রিবলিংয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে বল বাড়িয়ে দেন গর্ডনকে। এবার আর ভুল করেননি ইংলিশ উইঙ্গার। চাকিরের কাছের পোস্ট দিয়ে নিচু শটে বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান ৩-১ করেন তিনি।
বার্সেলোনার চতুর্থ গোলেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল ইয়ামালের। তার বাড়ানো থ্রু বল নিয়ন্ত্রণে নিতে গিয়ে গ্যাব্রিয়েল জেসুসের স্পর্শে বলটি গড়িয়ে যায় কারিম আদেয়েমির কাছে। সুযোগ পেয়ে জোরালো শটে চাকিরকে পরাস্ত করেন আদেয়েমি।
শেষদিকে আরও একটি সুযোগ পেয়েছিলেন ইয়ামাল, কিন্তু তার শট চলে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে। অন্যদিকে, আদেয়েমির আরেকটি শট জালের বাইরের অংশে লাগে। শেষ পর্যন্ত সহজ জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা।
চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত প্রতিপক্ষকে একের পর এক বড় ব্যবধানে হারিয়ে চলেছে বার্সেলোনা। লা লিগায় আট ম্যাচ শেষে তাদের গোলসংখ্যা ৩৪। আট ম্যাচেই জয়ের ধারা ধরে রেখেছে ফ্লিকের দল।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রথম ম্যাচে ফেইনুর্দকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল বার্সেলোনা। তবে গত রাতের ম্যাচের প্রথমার্ধকে এখন পর্যন্ত তাদের অন্যতম কঠিন পরীক্ষা হিসেবে বিবেচনা করা যায়।
বার্সেলোনার রক্ষণভাগের দুর্বলতাকে শুরুতেই কাজে লাগায় গালাতাসারাই। গত মৌসুমে পুরো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ অভিযানেও কোনো ম্যাচে ক্লিন শিট রাখতে পারেনি বার্সেলোনা। চলতি মৌসুমেও এখন পর্যন্ত টানা ১৪ ম্যাচে প্রতিপক্ষকে গোল করা থেকে বিরত রাখতে ব্যর্থ হয়েছে তারা।
তবে আক্রমণভাগের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে সেই দুর্বলতা অনেকটাই আড়াল হয়ে যাচ্ছে। দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় রাফিনিয়া না থাকলেও আক্রমণে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছে বার্সেলোনা। ফ্লিকের অধীনে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ২৮ ম্যাচে তাদের গোলসংখ্যা এখন ৮৪।
গালাতাসারাইয়ের বিপক্ষে জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল ইয়ামালের। সতীর্থদের জন্য পাঁচটি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন তিনি। পাশাপাশি ম্যাচে সর্বোচ্চ পাঁচটি শটও নিয়েছেন এই স্প্যানিশ উইঙ্গার, যে সংখ্যায় তার সঙ্গী গর্ডন।
এই ম্যাচে দুটি অ্যাসিস্ট করে বার্সেলোনার হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এক ম্যাচে অন্তত দুটি অ্যাসিস্ট করার কীর্তি অষ্টমবারের মতো গড়েছেন ইয়ামাল। এর মধ্যে চারবারই এমন পারফরম্যান্স এসেছে চলতি মৌসুমে।
তবে সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে বার্সেলোনার জন্য। আগামী সপ্তাহে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজির মাঠে খেলতে যাবে ফ্লিকের দল। সেখানে ইয়ামাল ও বার্সেলোনার আক্রমণভাগ নিজেদের এই দুর্দান্ত ছন্দ ধরে রাখতে পারে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।